বার্তাবাংলা ডেস্ক »

আফগানিস্তানের একটি সেনা ঘাঁটিতে তালেবান জঙ্গিদের হামলায় সরকারি বাহিনীর ১৮ সেনা নিহত হয়েছেন। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অপরদিকে, রাজধানীতে এক আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে একজনকে হত্যা করেছে। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। খবর রয়টার্স।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দৌলত ওয়াজিরি জানিয়েছেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় ফারাহ প্রদেশে শুক্রবার রাতে একটি সেনা পোস্টে হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। তিনি বলেন, বহু সংখ্যক তালেবান জঙ্গি একটি সেনা পোস্টে হামলা চালিয়েছে। আমরা ১৮ সেনাকে হারিয়েছি। হামলায় আরও দু’জন আহত হয়েছেন। ওয়াজিরি জানিয়েছেন, তার কাছে ওই হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই। তালেবানের তরফ থেকে ওই হামলার দায় স্বীকার করে জানানো হয়েছে, তাদের দুই যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

শনিবার হেলমান্দ প্রদেশের লস্কর গাহ শহরে পৃথক একটি আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় এক আত্মঘাতী একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণ করলে কমপক্ষে দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। ওই একই প্রদেশে একটি সেনা পোস্ট হামলার ঘটনায় দুই সেনা নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন।

এর আগে গত মাসের ২১ তারিখে একটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তালেবান জঙ্গিদের হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪ জনই বিদেশি নাগরিক। ঘটনাস্থলে বন্দুকধারীদের সঙ্গে বিশেষ বাহিনীর প্রায় ১২ ঘণ্টা লড়াই চলে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বন্দুকধারীদের প্রতিহত করে বিলাসবহুল ওই হোটেলের নিয়ন্ত্রণ নেয় নিরাপত্তা বাহিনী।

ওই হামলার মাত্র চারদিন পরেই আফগানিস্তানে সেভ দ্য চিলড্রেনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়। কয়েকজন বন্দুকধারী কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে এবং এর পরপরই ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। জালালাবাদে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের কার্যালয়ে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।

ইউনিভার্সিটি অব কাবুলের লেকচারার আবদুল্লাহ ফাহিমি আল জাজিরাকে বলেন, শহরে জঙ্গিদের হামলা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে একটি মিনিবাসে করে যাওয়ার সময় একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৫ জন মিলিটারি ক্যাডেট নিহত হয়। তালেবান জঙ্গি গোষ্ঠী ওই হামলা চালিয়েছে বলে দায় স্বীকার করেছে।

গত মাসের ২৭ তারিখে রাজধানী কাবুলে বিস্ফোরক বোঝাই একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হামলা চালানোর ঘটনায় পুরো শহরজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওই হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত এবং আরও কমপক্ষে ২৩৫ জন আহত হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাজিব দানিস জানিয়েছেন, শনিবার এক আত্মঘাতী ন্যাটো বাহিনীর সদর দফতরের কাছে রাস্তায় নিজের সঙ্গে থাকা বিস্ফোরক দিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায়। তবে ওই হামলায় হতাহতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়।

জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) তাদের মুখপত্র আমাক নিউজ এজেন্সির এক খবরে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে। ২০১৫ সাল থেকেই ওই এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে আইএস। এ পর্যন্ত সেখানে বহু হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠনটি।

কাবুলে চলমান হামলা ও সহিংসতা থেকে শহরটির ৫০ লাখ মানুষকে রক্ষা করতে নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনার অনুমোদন করেছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। তবে ইতোমধ্যেই শহরে নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু চেক পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। তবে নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী কী আনা হচ্ছে সে সম্পর্কে পরিষ্কার করে কিছু জানানো হয়নি।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »