বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পাপনের এক কিশোরীকে চুম্বন করা নিয়ে ঘটে গেছে তুলকালাম কাণ্ড। বিতর্কে মুখে পড়েছেন এই শিল্পী। প্রতিযোগিদের নিয়ে ফেসবুক লাইভ করছিলেন পাপন। সেসময় এক কিশোরীকে প্রকাশ্যে চুম্বন করেন তিনি। ওই লাইভ ভিডিও দেখেই পাপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

জানা গেছে, পকসো আইনে এনসিপিসিআর-এ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নিজের ফেসবুক পেজে গতকাল শুক্রবার রাতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে পাপন লিখেছেন, ‘কয়েক দিন ধরে আমাকে নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি অবগত। এ ধরনের আলোচনার জন্য আমি বিব্রত হচ্ছি। দুঃখপ্রকাশ করছি। যাঁরা আমাকে চেনেন, তাঁরা জানেন, কাছের মানুষদের সঙ্গে আমি আনন্দ করতে পছন্দ করি। ১১ বছরের একটি শিশু, যাকে দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, তাঁকে এভাবে আদর করা আমার দৃষ্টিতে মোটেও খারাপ কিছু নয়।’

পাপন মোহান্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নাকি হোলি উপলক্ষে অ্যান্ড টিভির রিয়্যালিটি শো ‘দ্য ভয়েস ইন্ডিয়া কিডস’-এর শিশু আর কলাকুশলীদের নিয়ে ফেসবুক লাইভে একটি শিশুকে জোর করে চুমু খেয়েছেন। পাপনের বিরুদ্ধে আদালতে শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে (পকসো) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুনা ভায়ন। গত মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পেজ থেকে এই লাইভ করেন পাপন।

পাপন আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ, আপনারা একটু থামুন। একটিবার ভাবুন, এই আলোচনার ফলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কতটা ক্ষতি হতে পারে। আমার স্ত্রী আছেন, যাঁর সঙ্গে আমি ১৪ বছর ধরে সংসার করছি। আমাদের ফুটফুটে দুটি সন্তান আছে। তা ছাড়া এই ঘটনায় ছোট একটি মেয়ে জড়িত, যার পরিচয় মোটেও গোপন নেই। সবাই যা করছে, তাতে আমাদের দুজনের পরিবারই সামাজিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।’

পাপন আরও লিখেছেন, ‘আমি বলছি না আমি কোনো ভুল করিনি। আমি খুব স্বাভাবিকভাবেই কাজটি করেছি। কিন্তু আমার চিন্তা যতই নিষ্পাপ হোক না কেন, বর্তমান যুগে একটি মেয়েশিশুকে স্পর্শ করাও যৌক্তিক না। এ জন্য আমি দুঃখিত। দয়া করে এই বোকামি ও নির্বুদ্ধিতার জন্য আমাকে ক্ষমা করুন। আর আমাকে ওসব জঘন্য নামে ডাকা বাদ দিন।’

এদিকে পাপনের আইনজীবী বলেন, ‘আমার মক্কেলের কোনো খারাপ উদ্দেশ্য থাকলে তিনি সেই ভিডিওটি নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে নিশ্চয় শেয়ার করতেন না। আর সেই প্রতিযোগী মেয়েটির বাবাও বলেছেন, আমার মক্কেলের সঙ্গে তাঁর মেয়ের গুরু-শিষ্য সম্পর্ক।’

ভারতের শিশু প্রতিরক্ষা ও অধিকারবিষয়ক জাতীয় কমিশনের মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা কানুনগো বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। শিগগিরই রাজ্য সরকারের কাছে এ বিষয়ে নোটিশ পাঠাব। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এখানে শিশুর যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন ভঙ্গ করা হয়েছে।’ আউটলুক ইন্ডিয়া

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »