বার্তাবাংলা ডেস্ক »

পিরোজপুরে পুলিশের তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান বাবরের (৩৬) মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার রাতে শহরের শেখপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এ মৃত্যুর সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

আসাদুজ্জামান পিরোজপুর পৌরসভার উত্তর নামাজপুর গ্রামের মৃত আনছার উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। তিনি ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে জেলার সদর উপজেলায় বিএনপি-সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন।

এলাকাবাসী ও আসাদুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিরোজপুর শহরের শেখপাড়া ও মধ্য রাস্তা এলাকায় পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের আটক করতে গত কয়েক দিন ধরে অভিযান চালায়। শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে পিরোজপুর সদর থানার এক দল পুলিশ শেখপাড়া এলাকায় আসাদুজ্জামানের বাড়িতে যায়। আসাদুজ্জামান তখন বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন। পুলিশ তাঁকে আটকের চেষ্টা করলে তিনি দৌড় দেন। এ সময় বাড়ির পেছনের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তিনি পুকুরে পড়ে যান। পুলিশ চলে যাওয়ার পর পরিবারের লোকজন অচেতন অবস্থায় আসাদুজ্জামানকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুপুরে জানাজা শেষে আসাদুজ্জামানের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, রাত ১০টার দিকে আসাদুজ্জামানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হার্ট অ্যাটাকে তাঁর মৃত্যু হতে পারে।

আজ রোববার সকালে আসাদুজ্জামানের উত্তর নামাজপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, স্বজনদের আহাজারিতে বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। আসাদুজ্জামানের বড় বোন মেরী বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে আসাদুজ্জামানের স্ত্রী ডালিয়া আক্তারকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েন ডালিয়া।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জিয়াউল হক আসাদুজ্জামানের মৃত্যুর সঙ্গে পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘শনিবার রাতে শহরে পুলিশের কোনো অভিযান ছিল না। তা ছাড়া আসাদুজ্জামানের নামে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আমাদের থানায় নেই। পুলিশ অহেতুক তাঁকে কেন আটক করতে যাবে।’

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »