হাওয়াইয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের ভুল সতর্কতায় আতঙ্ক

হাওয়াই দ্বীপের মাওউই হোটেলে ঘুম ভেঙেই ওসেলিন আজবেল নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য হোটেলের বেসমেন্টে ছুটছিলেন। কারণ, ধেয়ে আসছে ‘ক্ষেপণাস্ত্র’!

আজবেল সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা কি মরতে যাচ্ছি? সত্যি কি আমাদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসছে? নাকি এটি পরীক্ষা? আমরা সত্যি জানি না।’

কয়েক মিনিট আগে আজবেল মোবাইলে এ-সংক্রান্ত একটি সতর্কবার্তা পেয়েছেন বলে জানান।

বার্তায় লেখা ‘হাওয়াই ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন। এটি কোনো মহড়া নয়।’

শুধু আজবেল নয়, হোটেলের এমন শত শত অতিথি বেসমেন্টে গাদাগাদি করে আশ্রয় নেয়। লোকজন আতঙ্কে কাঁদছিল।

তবে ২০ মিনিট পরে সবাই জানতে পারে—এটি একটি ভুল বার্তা ছিল।

আতঙ্কের এই দৃশ্য ছিল হাওয়াইয়ের সর্বত্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতে পারে—এমন বার্তায় আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। সেখানকার বাসিন্দাদের ফোনে বার্তা পাঠানো হয় যে এটা মহড়া নয়, অর্থাৎ সত্যিকারের অ্যালার্ট। সবাইকে নিরাপদ আশ্রয় নিতেও বলা হয়। বার্তা পাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকেরা ছুটোছুটি করছিল। যারা ক্যাফেতে ছিল, তারা টেবিলের নিচে আশ্রয় নেয়। অনেকে সামরিক বিমান রাখার স্থানে ছুটে যায়। অনেকে আবার টেলিভিশনের সামনে সর্বশেষ খবর জানার জন্য জড়ো হচ্ছিল।

তবে পরে দেখা গেল, এটি ছিল একটি ভুল। হাওয়াই ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির একজন কর্মী সতর্ক ব্যবস্থার ভুল বোতামে চাপ দেওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ডেভিড ইজ এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি পুরোপুরি তদন্ত করা হবে।

উত্তর কোরিয়া থেকে হাওয়াইয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা হতে পারে—এমন একটা অ্যালার্ম সিস্টেম অঙ্গরাজ্যটিতে আছে। স্নায়ুযুদ্ধের পর গত ডিসেম্বরে অঙ্গরাজ্যটি প্রথমবারের মতো পরমাণু সতর্কতা সাইরেন পরীক্ষা করে।

যদি উত্তর কোরিয়া সত্যি সত্যি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হাওয়াই লক্ষ্য করে ছোড়ে, তাহলে এই দ্বীপের বাসিন্দারা হাতে সময় পেতেন মাত্র ২০ মিনিট। এখানকার বাসিন্দারা এই সতর্কতা সম্পর্কে জানলেও পর্যটকদের এ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।

স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সকাল ৮টা ৭ সেকেন্ডে ভুল সতর্কতা লোকজনের মোবাইলে খুদে বার্তা আকারে পাঠানো হয়। এমনকি রেডিও ও টেলিভিশনে তা সম্প্রচার করা হয়।

বার্তা পাঠানোর ১৮ মিনিট পরে ই-মেইলে সংশোধনী দেওয়া হয়। তবে ৩৮ মিনিট পেরিয়ে গেলেও মোবাইলে কোনো সংশোধনী আসেনি।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে হাওয়াই ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির ভার্ন মিয়াগি বলেন, প্রতিটা শিফটের কর্মীরা যাওয়ার আগে নিশ্চিত করে যান যে এই সতর্কবার্তার গোটা ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে। আর তা করতে গিয়েই ভুল বোতামে চাপ পড়ে যায়। সেখানে অ্যালার্ট ট্রিগারে দুই ধাপে যেতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মী দুই ধাপেই সেই ভুল করেন। সেখানে লেখা থাকে, ‘তুমি কি নিশ্চিত যে তুমি এটা করতে চাও?’ ওই কর্মী ‘হ্যাঁ’ বোতাম চাপেন।

গভর্নর ডেভিড ইজ বলেন, ‘এটি ভুল বার্তা’—এমন কোনো বোতাম সেখানে নেই। এমন বোতাম থাকলে এতটা আতঙ্ক সৃষ্টি হতো না।

গভর্নর বলেন, ‘আমরা এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। এখন আমরা এই সতর্কতা ব্যবস্থার উন্নতি করব।’