হাথুরুর জন্য আইন বদলাল শ্রীলঙ্কা!

বাংলাদেশের কোচ হিসেবে সর্বময় ক্ষমতা ভোগ করতেন শ্রীলঙ্কান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। নিজের দেশের দায়িত্ব নিয়েও হাথুরু যে প্রায় একই মর্যাদা ভোগ করবেন—সেটার ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল। বাংলাদেশে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের আগে হাথুরুর জন্য দেশের ক্রীড়া আইনই বদলে ফেলছে লঙ্কান কর্তৃপক্ষ। উদ্দেশ্য, হাথুরুসিংহের হাতে নির্বাচকের দায়িত্বও তুলে দেওয়া। প্রতিটি সফরের দল নির্বাচনে হাথুরুর ভূমিকা থাকবে। তবে এই দায়িত্ব কেবল ম্যাচের একাদশ গঠনেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

শ্রীলঙ্কার ১৯৭৩ সালের ক্রীড়া আইনে জাতীয় দলের কোচের নির্বাচক হওয়ার কোনো বিধান নেই। কিন্তু হাথুরুকে নির্বাচক বানাতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট একটা বিশেষ সাধারণ বৈঠক আয়োজন করে এই বিধান বদলে ফেলে। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি থিলাঙ্গা সুমাথিপালা জানিয়েছেন, ‘হাথুরুসিংহে যেকোনো সফরে নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ম্যানেজার ও অধিনায়কের সঙ্গে বসে দলের প্রধান একাদশ নির্বাচন করবেন। ম্যানেজার ও অধিনায়কও নির্বাচক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন এই ব্যবস্থায় জাতীয় দলের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচকদের সফরের কোনো দরকার পড়বে না।’

হাথুরুর ক্ষমতায় অবশ্য একটা ফাঁক রেখে দেওয়া হয়েছে। সফরের সময় একাদশ নির্বাচনে তাঁর সর্বময় ক্ষমতা থাকলেও জাতীয় নির্বাচকদের কাজে তিনি কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। সফরের স্কোয়াড নির্বাচনে হাথুরুর কোনো ভূমিকা থাকবে না। বাংলাদেশের তিনি নির্বাচক প্যানেলের অন্যতম সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।

খুব কঠিন একটা সময়ে হাথুরুসিংহে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গেল বছর তিন সংস্করণ মিলিয়ে মোট ৫৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে লঙ্কান দল। হেরেছে ৪০টিতেই। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের গুরুদায়িত্ব এখন বর্তেছে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেওয়া শ্রীলঙ্কার সাবেক এই টেস্ট ক্রিকেটারের ওপর।

১৫ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে শুরু হচ্ছে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ। গত অক্টোবরে বাংলাদেশের দায়িত্ব ছাড়ার পর শ্রীলঙ্কার কোচ হিসেবে হাথুরুর প্রথম দায়িত্ব এটিই।