বার্তাবাংলা ডেস্ক »

চীনের পূর্ব উপকূলে পণ্যবাহী জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে আগুন ধরে যাওয়া ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারটি বিস্ফোরিত হওয়ার বা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো ট্যাংকারের নিখোঁজ ৩২ নাবিকের খোঁজ মেলেনি। তাঁদের মধ্যে ২ বাংলাদেশি ও ৩০ জন ইরানি। আজ সোমবার এএফপির খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

ইরান থেকে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার পথে গত শনিবার রাতে চীনের সাংহাইয়ের পূর্ব উপকূলে ১৬০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ট্যাংকারে আগুন ধরে যায় এবং তেল ছড়িয়ে পড়ে। ট্যাংকারে ১ লাখ ৩৬ হাজার টন তেল ছিল। আর হংকংয়ের পতাকাবাহী সিএফ ক্রিস্টাল নামের পণ্যবাহী জাহাজটিতে ৬৪ হাজার টন খাদ্যশস্য রয়েছে।

গতকাল রোববার চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদের ফুটেজে দেখা গেছে, ট্যাংকারে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। তবে ট্যাংকারটি পানিতে ভাসছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা ছেয়ে গেছে কালো ধোঁয়ায়।

তবে খাদ্যবাহী অন্য জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিরাপদ রয়েছে। এই জাহাজের ২১ জন চীনা নাবিকের সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে।

চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয় আজ জানায়, বিষাক্ত ধোয়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।

পানামার পতাকাবাহী ২৭৪ মিটার দীর্ঘ সানচি নামের ট্যাংকারটি বিস্ফোরিত বা ডুবে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সরকারের ১০টি ব্যাসেল ও মাছ ধরার কয়েকটি জাহাজ উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্টগার্ড জাহাজও ঘটনাস্থলে রয়েছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের একটি নেভি এয়ারক্রাফটও বিশাল এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালায়। এরপর এটি জাপনের ওকিনাওয়া কাদেনা বিমানঘাঁটিতে ফিরে যায়।

ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ট্যাংকারটি ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার হানহা টোটালকে কার্গো সরবরাহ করে থাকে। জাহাজ ও কার্গোর বিমা করা আছে।

দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে এটি এনআইটিসি মালিকানাধীন ট্যাংকার দুর্ঘটনার দ্বিতীয় ঘটনা। গত আগস্টে সিঙ্গাপুর স্ট্রেইটে ইরানের সুপারট্যাংকার ও মালবাহী জাহাজের সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি ব্যাসেলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কোনো হতাহত বা পরিবেশদূষণের ঘটনা ঘটেনি।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »