বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ইন্দোনেশিয়ার ‘নারুতো’র কথা মনে আছে? সেই যে ২০১১ সালে ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার ডেভিড স্লাটারের ক্যামেরায় নিজেই নিজের ছবি তুলেছিল যে বানর! সেই ‘নারুতো’ এখন ‘বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব’!

সান ফ্রান্সিসকোর প্রাণী অধিকার সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘দ্য পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিমেলস’ (পিইটিএ) নারুতোকে ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ সম্মানে ভূষিত করেছে। ম্যাকাউ প্রজাতির এই বানরকে ‘ব্যক্তি’ হিসেবেই মনে করছে পিইটিএ। তাদের ভাষ্য, ‘সে কেউ একজন, কোনো কিছু নয়।’

২০১১ সালেই আলোচনার ঝড় তুলেছিল নারুতো। সে বছর ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার ডেভিড স্লাটার ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়াসি দ্বীপে গিয়েছিলেন ছবি তুলতে। সেখানেই ‘নারুতো’র সন্ধান পেয়েছিলেন ডেভিড। তিনি ক্যামেরা ঠিক করে দিলেও ‘নারুতো’ নিজেই নিজের ‘সেলফি’ তুলেছিল। পরে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত বইয়ে সেই ‘সেলফি’ ছেপে আইনি ঝামেলায় পড়েছিলেন ডেভিড।

ছবিটার স্বত্বাধিকারী ডেভিড নয়, নারুতো—এমন দাবি করে সান ফ্রান্সিসকোর আদালতে মামলা ঠুকে দেয় পিইটিএ। যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট কার্যালয় থেকে বলা হয়েছিল, শুধু মানুষের করা কাজেই স্বত্বের প্রশ্ন প্রশ্ন আসে। প্রাণীদের ক্ষেত্রে এই অধিকার প্রযোজ্য নয়। শেষ পর্যন্ত আদালতও পিইটিএর দাবির বিপক্ষে রায় দেয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এতে মোটেও দমে যায়নি।
আজ নারুতোকে বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে ঘোষণা করার পাশাপাশি পিইটিএ প্রতিষ্ঠাতা ইনগ্রিড নিউকির্ক বলেন, ‘নারুতোর ঐতিহাসিক সেই “সেলফি” কে ব্যক্তি আর কে ব্যক্তি নয়—এ ধারণাটিকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। সে নিজেই কোনো সম্পত্তি, নাকি কোনো সম্পত্তির মালিক হতে পারবে—তার সমাধানে প্রথমবারের মতো আইনের দ্বারস্থও হতে হয়েছিল।’ সেই মামলায় স্লাটার জিতলেও পিইটিএর লক্ষ্য কিন্তু পূরণ হয়েছে। স্লাটার কথা দিয়েছেন, নারুতোর সেই ‘সেলফি’ থেকে যে পরিমাণ আয় হবে, তার ২৫ শতাংশ অর্থ চ্যারিটিতে দান করা হবে। ইন্দোনেশিয়ার ম্যাকাউ বানরদের জন্য সেই অর্থ ব্যয় করা হবে। সূত্র: ডেকান ক্রনিকল।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »