বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ফিল সিমন্সের সাক্ষাৎকার দিতে আসার কথা ৯ ডিসেম্বর। তার আগে আজকালের মধ্যে আরও একজনও নাকি আসতে পারেন কথা বলতে, যাঁর নাম এখনই প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। তবে কাল রিচার্ড পাইবাসের উপস্থাপনায় বিসিবি এতটাই মুগ্ধ যে, আর কারও সঙ্গে কথা বললেও সেই মুগ্ধতার আবেশ থেকে যেতে পারে।

বিসিবি কার্যালয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্রিকেট পরিকল্পনা নিয়ে ঘণ্টা দুয়েকের আলোচনা ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দিয়ে পাইবাস চলে যান শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সে। সেখানে বসে দেখেছেন বিপিএলের ঢাকা ডায়নামাইটস-রংপুর রাইডার্সের ম্যাচ। সঙ্গী বিসিবি সভাপতি ম্যাচ শেষে নেমে এলেন নিচে। সংক্ষেপে বর্ণনা করলেন তাঁর পাইবাস-দর্শনের অভিজ্ঞতা, ‘পাইবাসের প্রেজেন্টেশন নিশ্চিতভাবেই ভালো, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর কথাবার্তা, প্রেজেন্টেশন, বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কে ধারণা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এককথায় অসাধারণ। ওখানে থাকা সব বোর্ড পরিচালক তাঁর সবকিছুতে খুবই সন্তুষ্ট।’ বিকেলে স্টেডিয়াম ছেড়ে যাওয়ার সময় অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিকদের পাইবাসও বলেছেন, ‘খুব ভালো একটা দিন কাটালাম। চমৎকার আলোচনা হয়েছে।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য আগামী ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন পাইবাস। তবে ২০১৯ বিশ্বকাপ সামনে রেখে একটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাও চেয়েছিল বিসিবি। দুটিই তিনি উপস্থাপন করেছেন। ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য অন্তত সেমিফাইনালে যাওয়া। ১৭ মাসের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় পাইবাসও নাকি আশ্বস্ত করেছেন এই বলে, ‘আমাকে তো পারফরম্যান্স দেখাতেই হবে। নইলে আপনারা আমাকে রাখবেন কেন?’

ওয়ানডে ও টেস্টে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন ইংলিশ বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ। ওয়ানডেতে লক্ষ্য র‍্যাঙ্কিংয়ের ৭ নম্বর থেকে বাংলাদেশকে অন্তত ৫-এ তুলে আনা। টেস্টে ৯ থেকে উঠিয়ে আনতে চান ৭-এ। জানিয়েছেন পেস বোলারদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনার কথাও। বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন পেসারের নাম উল্লেখ করে তাঁদের অমিত সম্ভাবনার কথাও বলেছেন।

১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম আঞ্চলিক সেন্টার অব এক্সেলেন্স প্রতিষ্ঠা করা। লক্ষ্য, সারা দেশ থেকে প্রতিভা অন্বেষণ করে কেন্দ্রীয় একাডেমিতে নিয়ে আসা। এ রকম একটি পরিকল্পনা অবশ্য বাংলাদেশের ক্রিকেট সংগঠকেরাই দেড় যুগ ধরে করে আসছেন। যা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। কালও বিসিবি সভাপতি পারেননি পাইবাসকে আশা দেখাতে, ‘ও যা চায়, যে রকম চায়, এক্ষুনি হয়তো সবটা দিতে পারব না। কিন্তু ওর পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের জন্যই ভালো হবে।’

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »