বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহ রাজধানী সানায় শিয়াপন্থি-হুতি মিলিশিয়াদের হামলায় নিহত হয়েছেন। সালেহর দলের বরাত দিয়ে সৌদি আরবের আল-আরাবিয়া টিভি সোমবার এ খবর জানিয়েছে।

সালেহর জেনারেল পিপলস কংগ্রেস পার্টির এক সদস্যের বরাত দিয়ে আল-আরাবিয়া জানায়, সালেহ বুলেটে নিহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুতিদের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে সালেহ সদৃশ একটি মৃতদেহ দেখা গেছে। সেটি ধূসর রঙা কাপড় পরানো ছিল এবং একটি লাল কম্বলে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লাশের মাথার একপাশে গভীর ক্ষতও দেখা গেছে।

ইয়েমেনের হুতি পরিচালিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বেতার কেন্দ্র প্রথমে সালেহ নিহত হওয়ার খবর জানালেও তার দল রয়টার্সের কাছে মৃত্যুর খবর অস্বীকার করে।

এর আগে সোমবার রাজধানী সানায় হুতি বিদ্রোহীদের সালেহর বাড়ি উড়িয়ে দেওয়ার খবর দিয়েছিল অধিবাসীরা।

সালেহর সমর্থকদের সঙ্গে হুতিদের গত ছয়দিনের লড়াইয়ে সালেহ’র অনুগত বাহিনী নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। রেড ক্রসের হিসাবমতে, লড়াইয়ে নিহত হয়েছে অন্তত ১২৫ জন এবং আহত হয়েছে ২৩৮ জন।

ইয়েমেনে গত তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে ইরান সমর্থিত শিয়া হুতি বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়েছিলেন সালেহ ও তার অনুগত বাহিনী।

কিন্তু গত বুধবার রাজধানী সানায় সালেহ অনুগত বাহিনীগুলোর সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাত শুরু হয়। হুতি যোদ্ধারা শহরটির প্রধান মসজিদ চত্বরে জোর করে প্রবেশ করেছে, সালেহ অনুগতরা এমন অভিযোগ তোলার পর উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই শুরু হয়।

শনিবারও সানার রাস্তায় দুপক্ষের মধ্যে লড়াই হয়। ওই দিন শহরটির দক্ষিণাংশের উপশহরে যে এলাকায় সালেহর স্বজনরা বাস করেন সেখানে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি হয়।

ওই দিনই টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে সালেহ ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের ওপর আরোপ করা অবরোধ তুলে নেওয়া ও হামলা বন্ধের শর্তে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে আলোচনার প্রস্তাব দেন।

এ জবাবে সালেহকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেছে হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি জোট ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মনসুর হাদি সরকারের পক্ষে সেখানে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে।

সৌদি জোট এবং প্রেসিডেন্ট হাদি উভয়ই সালেহর আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

রয়টার্স জানায়, ছয়দিন ধরে তুমুল লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত সোমবার সালেহ অনুগত বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »