বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ত্বকে টান টান ভাব আর শুষ্কতা জানান দিচ্ছে বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার সময় এসে গেছে। শীতেও ধরে রাখা যেতে পারে ত্বকের প্রাকৃতিক জৌলুশ। তবে ধরন অনুযায়ী পাল্টে যাবে পরিচর্যার প্রক্রিয়া।

ত্বক ভালো রাখার টিপস
* ত্বক ও চুলের সুস্থতা বজায় রাখতে শীতকালীন সবজি চমৎকার। কমলা, আপেল ও বেরির মতো ফল ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখবে শীতজুড়ে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের বাদাম, কুমড়ার বিচি, স্ট্রবেরি, অ্যাভোকাডো, নারকেল রাখা দরকার শীতের খাবারের তালিকায়।
* সপ্তাহে একদিন স্পা করতে পারেন ঘরে বসেই। এতে শীতের রুক্ষতা থেকে রক্ষা পাবে পুরো শরীর। দুই কাপ চিনির সঙ্গে অর্ধেক কাপ এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে পুরো শরীর স্ক্রাব করে নিন। মুখের ত্বকের জন্য ওটমিল আর মধুর মিশ্রণ উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে দিতে দারুণ। যাঁরা ত্বক মসৃণ করতে চান, তাঁরা কুমড়ার ভেতরের নরম অংশের সঙ্গে মধু আর দুধ মিশিয়ে তৈরি করে নিন প্যাক।
* তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে বেছে নিতে পারেন লেবু কিংবা জোজোবা তেল। এগুলো ত্বকের দাগ-ছোপ দূর করবে, রোধ করবে ব্রণ। ত্বকের সেরাম উৎপাদনের মাত্রাকে রাখবে স্বাভাবিক। জোগাবে আর্দ্রতাও। শুষ্ক ত্বকের জন্য ল্যাভেন্ডার আর আরগান তেলটাই বেশি উপযোগী। এগুলো ত্বকের গভীরে আর্দ্রতার জোগান দেয়, দূর করে দাগ-ছোপ। আলট্রা হাইড্রেটিং হওয়ায় ত্বককে সহজে বুড়িয়েও যেতে দেয় না। স্পর্শকাতর ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন শণবীজ কিংবা পেপারমিন্ট তেল। ত্বক ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে তেলগুলো। র‌্যাশ আর লালচে ভাব সারাবে।
* ত্বক পরিষ্কারের জন্য ডবল ক্লেনজিং এখন জনপ্রিয়। এতে মূলত দুই ধরনের ক্লিনজার ব্যবহার করা হয়। একটা তেলযুক্ত ক্লিনজার, যা মেকআপ আর সেরামের মতো তৈলাক্ত ময়লাগুলো দূর করে। তারপর ব্যবহার করা হয় ফোম অথবা ক্রিম ক্লিনজার। ঘাম ও ধুলাবালুর মতো পানিযুক্ত ময়লা দূর করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক হয় পরিপূর্ণ পরিষ্কার।
* শীতে সূর্যটা খুব বেশি প্রখর না থাকলেও সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি এই সময়েও সমান ক্ষতিকর। প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা চাই। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি এসপিএফ-যুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায়। শীতে ত্বক আর্দ্রও থাকবে, থাকবে সুরক্ষিত।
* খুব বেশি লম্বা সময় ধরে গোসল করা উচিত নয়। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। এতে ত্বক দেখায় ম্যাড়মেড়ে, রুক্ষ ও খসখসে। তাই শীতে অল্প সময়ে ঈষদুষ্ণ পানিতে গোসলটা সেরে নিন। গোসলের পরপরই ভারী ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন ত্বকে।
* শীতে গোল্ডেন মিল্ক খেয়ে দেখতে পারেন। এটা বানানো খুব সহজ। এক কাপ দুধে অর্ধেক চা-চামচ হলুদ পেস্ট কিংবা গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেল, সিকি চা-চামচ গোলমরিচের গুঁড়া আর দুই স্টিক দারুচিনি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। তারপর ছেঁকে খেয়ে নিন। ত্বক উজ্জ্বল করবে এটি। চুলের বৃদ্ধিও ত্বরান্বিত করবে। অ্যান্টি এজিং হিসেবেও দারুণ। সঙ্গে ঠান্ডাজনিত যেকোনো সমস্যা সারাবে।
* যোগব্যায়াম দেহের রক্ত সঞ্চালনকে ত্বরান্বিত করে। ফলে দেহ পায় বাড়তি অক্সিজেন আর উপকারী ফ্রি র‌্যাডিকেল, যার প্রভাব পড়ে ত্বকেও। হয়ে ওঠে তারুণ্য আর উজ্জ্বল।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »