৫ গ্রামের ১০ হাজার মানুষের ভরসা …

‘আমার বাবার আমল থেকে আমি ওই বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হয়ে আসছি। বর্তমানে আমার বয়স ৩০ বছর। কিন্তু ওই কাউয়ারঘাটে আজও ব্রিজ হলো না।’ কথাগুলো বলছিলেন কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি মাছুয়াপাড়া গ্রামের কৃষক ওয়াদুদ আলী।
তার মতো একই ভোগান্তির শিকার এখানকার পাঁচটি গ্রামের ১০ হাজার মানুষের। বাহাগিলি ইউনিয়নের কাউয়ারঘাটে যমুনেশ্বরী নদীর ওপর দিয়ে ব্রিজ না হওয়ায় এখন তাদের একমাত্র ভরসা বর্তমান বাঁশের সাঁকোটি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ নেই। প্রতিবছর বর্ষাকালে এই বাঁশের সাঁকোটি এলাকাবাসী সংস্কার করেন। এই সাঁকো দিয়ে কোনো রকম চলাচল করা গেলেও কৃষকের উৎপাদিত পণ্য এর ওপর দিয়ে কিশোরগঞ্জ কিংবা তারাগঞ্জ হাটে নিয়ে যাওয়া যায় না। এ কারণে মাছুয়াডাড়া, কাছারীপাড়া, ডাঙ্গারহাট, নান্নুরবাজার ও গুচ্ছগ্রামের মানুষকে উৎপাদিত পণ্য কিশোরগঞ্জ কিংবা তারাগঞ্জ হাটে নিয়ে যাওয়ার জন্য দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
কৃষক ওয়াদুদ আলী বলেন, ব্রিজ না থাকার কারণে কৃষিপণ্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে তারাগঞ্জ হাটে এবং ছয় কিলোমিটার ঘুরে কিশোরগঞ্জ হাটে নিয়ে যেতে দ্বিগুণ ভ্যান ভাড়া দিতে হয়।’

বাহাগিলি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান শাহ দুলু বলেন, ‘উত্তর দুরাকুটি, মাছুয়াপাড়া, কাছারীপাড়া ও গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য ওই জায়গায় ব্রিজ নির্মাণ করা খুবই জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি ওই খানে ব্রিজ করে দেব। যেহেতু আমি দ্বিতীয় মেয়াদে বাহাগিলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি সেহেতু চেষ্টা করব যাতে খুব তাড়াতাড়ি সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’