বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dating App

মধুমিতা সিনেমা হলের যাত্রা শুরু ১৯৬৭ সালের ১ ডিসেম্বর। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করেছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার বিচারপতি আবদুল জব্বার খান। আজ শুক্রবার ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের ৫০ বছর পূর্তি। গতকাল মধুমিতায় গিয়ে দেখা গেল ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপনের নানা প্রস্তুতি চলছে। চলছে ঘষামাজা, লাগছে রং। পুরো প্রতিষ্ঠানের গায়ে জ্বলছে রঙিন বাতি। আজ মধুমিতায় মুক্তি পাচ্ছে নতুন ছবি হালদা। দিনে ছবি প্রদর্শনীর পর রাতে নানা আয়োজনে উদ্‌যাপন করা হবে মধুমিতার সুবর্ণজয়ন্তী।
কথা হলো প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদের সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মধুমিতার ৫০ বছর পূর্তিতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন—এ তথ্য দিয়ে আপ্লুত নওশাদ বলেন, ‘আমার এবং দেশের জন্য এটা বড় একটি পাওয়া। কারণ এখন দেশের অনেক সিনেমা হল যখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমরা আমাদের সিনেমা হল শুধু চালুই রাখিনি, দিনে দিনে আধুনিক করছি। আমি সব সময়ই চাই বাংলাদেশের সিনেমা যেন এগিয়ে যায়।’ ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ আরও বলেন, ‘আজ থেকে ৫০ বছর আগে ক্লিওপেট্রা সিনেমা দিয়ে আমাদের সিনেমা হলটি প্রদর্শনী শুরু করেছিল। একই দিনে ৫০ বছর পর আমরা বাংলাদেশের মৌলিক গল্পের ছবি হালদা চালাতে পারছি, এটা নিয়ে আমি গর্ব করি।’
শুরুর দিনই আধুনিক শব্দ (ম্যাগনেটিক সাউন্ড) সুবিধা নিয়ে যাত্রা করেছিল মধুমিতা। ১৯৯৭ সাল থেকে এখানকার পর্দা বা স্ক্রিনে ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে সিনেমা হলে বসার আসন, বাথরুম থেকে শুরু করে শব্দব্যবস্থা সবকিছুই বদলে ফেলা হয়েছে মধুমিতার।
শুধু দেশ-বিদেশের ছবি প্রদর্শনী নয়, মধুমিতা মুভিজ থেকে আয়না, মিস লংকা, আগুন, গুনাহ, দূরদেশ, নিশান, উৎসর্গসহ বেশ কিছু সুপারহিট সিনেমা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে আমদানি করেছে হেলেন অব ট্রয়, ইয়েসটার ডে টু ডে অ্যান্ড টুমরো, সানফ্লাওয়ার, স্পার্টাকাস, ফল অব দ্য রোমান অ্যাম্পায়ার, বেনহার, কমান্ডো, জুরাসিক পার্ক, ডেসপারেডোসহ আরও অনেক কালজয়ী বিদেশি ছবি।
মতিঝিল এলাকায় তিন বিঘা জায়গায় নিজস্ব ভবনে গড়ে উঠেছে এই সিনেমা মিলনায়তন। পুরোপুরি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এই হলে ১ হাজার ২২১ জন দর্শক একসঙ্গে বসে ছবি দেখতে পারেন।
সুসংবাদ হচ্ছে, মধুমিতা কর্তৃপক্ষ কয়েকটি উন্নত মানের সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করবে। সেখানে ফুডকোর্টের পাশাপাশি শিশুদের খেলার আয়োজনও রাখা হবে। যেন মধ্যবিত্তদের পাশাপাশি উচ্চবিত্তরাও সিনেমা দেখার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন, সেই চেষ্টাও থাকবে তাদের।

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »