যক্ষ্মা রোগী হ্রাসকরণে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ জরুরি

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: যক্ষ্মা রোগী হ্রাসকরণ শুধু একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। তবে অগ্রগতি কার্যক্রম চললেও ডায়াগনস্টিক সুবিধার অপ্রতুলতা, লণ নিয়ে বিভ্রান্তি ও চিকিৎসকদের অদতার কারণে ফুসফুসে যক্ষ্মা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এজন্য চিকিৎসকদের মানসিকতার পরিবর্তনের পাশাপাশি জনসচেতনতা জরুরি।
জাতীয় প্রেসকাবে শনিবার আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থাসমূহ ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস-২০১৩ কে সামনে রেখে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন্ প্রশ্নের উত্তর দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিবি অ্যান্ড ল্যাপ্রসি নিয়ন্ত্র কর্মসূচীর লাইন ডিরেক্টর ডা. আশেক হোসেন। আরো বক্তব্য রাখেন ডেমিয়েন ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. অং ক্য জাই মগ, নাটাব এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুদ্দিন আহমেদ মুকুল, লেপ্রা বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর  ডা. আপ্রু মং, সিএইচএস ইউআরসি এর টিম লীড়ার জাহাঙ্গির আলম, ডব্লিওএইচও এর এনপিও ( টিবি, কেয়ার) ডা. সাবেরা সুলতানা প্রমূখ। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে সংস্থাটির যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সম্পর্কে  বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ব্র্যাকের হেলথ নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন প্রোগ্রাম এর সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. বিভাকর রায় ও কনসালট্যান্ট ডা. দীপক কুমার বিশ্বাস।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. আশেক হোসেন জানান, যক্ষ্মা একেবারে নির্মূল করা সম্ভব নয়। কারণ, বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও অশিক্ষা যেখানে এখনো রয়ে গেছে সেখানে এটি নিরুপন অনেকটা অসম্ভব। তাছাড়া আমাদের আর একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ, যক্ষ্মা রোগী ছড়াতে পারে এমন অনেক রোগীকে আমরা তৃণমূল পর্যায় থেকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারি না।
তিনি বলেন, ২০১২ সালে এ রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৪ হাজার। ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় ২০১১ সালের তুলনায় এ সংখ্যা ৬ লাখ বেড়েছে। তবে বাংলাদেশে এ হার বাড়লেও আশঙ্কাজনক নয়। কারণ এক্ষেত্রে মানুষের সচেতনতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
বর্তমানে এটি ক্রমশ সরকারী খাত থেকে বেসরকারিকরণের দিকে যাচ্ছে কি-না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যক্ষ্মা এমন একটা ব্যাধি তা একা সরকারের পক্ষে নিরুপণ করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ডেমোক্র্যাটিক দেশ। এখানে জোর করে প্রাইভেট চিকিৎসা বন্ধ করা যাবে না। তবে এখনও চিকিৎসা সেবা পাবলিক সেক্টরে আছে বলে তিনি দাবি করেন।
পাবলিক সার্ভিসের পক্ষে পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে যেখানে ১ ডজন কোম্পানি টিবি ড্রাগ উৎপাদন করত, এখন সেখানে মাত্র একটি মাত্র কোম্পানি টিবি ড্রাগ উৎপন্ন করছে।
ব্র্যাকের হেলথ নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন প্রোগ্রাম কনসালট্যান্ট ডা. দীপক কুমার বিশ্বাস জানান, ব্র্যাক ৪২ টি জেলায় ৯ কোটি ৩০ লাখ লোকের মধ্যে যক্ষ্মা নিয়ে কাজ করছে। এক্ষেত্রে  যক্ষ্মা রোগ চিকিৎসা, স্বাস্থ্য সেবা ও সচেতনতায় স্বাস্থ্য সেবিকারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন,  ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজি-৬ অনুযায়ী যক্ষ্মার প্রকোপ অর্ধেকে নামিয়ে আনতে কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডটস পদ্ধতির চিকিৎসায় ফুসফুসের যা নিরাময়ের সাফল্য আশাব্যঞ্জক। এতে অন্যান্য বক্তারা ডাক্তাদের সেবা প্রদানের পাশাপাশি কমিউনিটি কার্যক্রম জোরালো, যা নিয়ন্ত্রণ কমসূচীর (এনটিপি) সাথে মিডিয়াকে আরো বেশি সম্পৃক্তকরণ এবং এ বিষয়ে  সচেতনতা গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস-২০১৩ উপলক্ষে কর্মসূচি
এদিকে ২৪ মার্চ  বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস ২০১৩। ‘যতদিন বাঁচব যক্ষ্মাকে রুখব’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসকে ঘিরে সরকার, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও অন্যান্য সহযোগি সংস্থাসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে র‌্যালী,  রাজধানী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেমিনার, আলোচনা সভা,  মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ও  বিশেষ টক শো। সকাল ৭টায় এ উপলক্ষে যাদুঘরের সামনে থেকে র‌্যালি শুরু হবে। দুপুর ১১ টায় ব্র্যাকের উদ্যোগে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ বিটিভি ও এটিএন বাংলায় বিশেষ টক শো সম্প্রচারিত হবে।