বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ঢাকার বাতাসের প্রতিদিনকার চিত্র পাওয়া যায় পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে। সরকারের এই সংস্থা রাজধানীর তিনটি স্থানে বায়ুদূষণ পরিমাপের যন্ত্র বসিয়েছে। সেখান থেকে পাওয়া উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, গতকাল বুধবার ঢাকার বায়ুমানের সূচক ছিল ২৬৯। পরিবেশ অধিদপ্তরের মান অনুযায়ী, এটি এখন লাল ক্যাটাগরির। অর্থাৎ স্বাস্থ্যের জন্য তা ‘মারাত্মক ক্ষতিকর’।

বায়ুতে ক্ষুদ্র বস্তুকণা ও চার ধরনের গ্যাসীয় পদার্থ পরিমাপ করে এ সূচক তৈরি করা হয়।

গতকাল বিশ্বের অন্যতম দুই দূষিত শহর ভারতের দিল্লি ও চীনের বেইজিং শহরের বায়ুমান সূচক ছিল যথাক্রমে ২২৮ ও ৩০। এই দুটি শহরের বায়ুমানের এ সূচক পাওয়া গেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে। সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোয় রাখা যন্ত্রে এ বায়ুমান প্রতিদিন মাপা হয়। তবে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে রাখা যন্ত্রে গতকাল বায়ুমান দেখানো হয়েছে ১৯৭। সেখানেও তা লাল ক্যাটাগরির।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে তোলপাড় হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানমাত্রার চেয়ে ওই শহরের বায়ুতে দূষিত পদার্থের পরিমাণ ৩০ গুণ বেড়ে যায়। ভারতের মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন শহরটির বায়ুদূষণের কারণে লাল সতর্কবার্তা জারি করে। শহরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, ঢাকার বাতাসে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বস্তুকণা, ক্ষুদ্র বস্তুকণা ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শহরের বাতাসে ক্ষতিকর ওই তিন উপাদানের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি থাকে।

পরিবেশ আইন অনুযায়ী, রাজধানীর বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তুকণা বা ‘পিএম ২.৫’-এর মানমাত্রা হচ্ছে প্রতি কিউবিক মিটারে ১৫ মাইক্রোগ্রাম। এ ছাড়া ‘পিএম ১০’ বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণার মানমাত্রা ৫০ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৫ সালে পিএম ২.৫-এর সারা বছরের গড় ছিল ৮১ মাইক্রোগ্রাম ও ২০১৬ সালে ৭৬ মাইক্রোগ্রাম। পিএম ১০-এর গড় পাওয়া গেছে ২০১৫ সালে ১৪৮ মাইক্রোগ্রাম ও ২০১৬ সালে আরও বেড়ে হয়েছে ১৫৮ মাইক্রোগ্রাম।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »