বার্তাবাংলা ডেস্ক »

তখন রাত তিনটা। বেশ ঘুমাচ্ছিলেন দশরথ মাদকামি। হঠাৎ করেই অদ্ভুত শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তার। চোখ খুলেই দশরথের চোখ তো ছানাবড়া! বাড়ির আঙিনায় বসে আছে এক বিরাট বড় কুমির। তার ঠিক কয়েক হাত দূরেই শুয়ে ছিলেন দশরথ। ভারতের ওডিশা রাজ্যের পূর্বাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। কুমির দেখেই নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে তড়িঘড়ি করে ঘণ্টা বাজাতে থাকেন দশরথ। এতে ঘুম ভাঙে গ্রামবাসীর। পরে গ্রামবাসীরা কুমিরটিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। কুমিরটি ছিল প্রায় ১২ ফুট লম্বা।

আতঙ্কিত গ্রামবাসী কুমিরটিকে মেরেই ফেলতে চেয়েছিল। পরে গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষকে। তারা কুমিরটিকে উদ্ধার করেন। বন কর্মকর্তারা কুমিরটিকে নিকটবর্তী সাতিগুড়া বাঁধ এলাকায় ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। কারণ ওই এলাকা থেকেই গ্রামে ঢুকেছিল সেটি।

কিন্তু গ্রামবাসীরা তাতে আপত্তি তোলে। তাঁদের আশঙ্কা, সেখানে ছাড়লে কুমিরটি আবার গ্রামে ফিরে আসতে পারে। স্থানীয় বন কর্মকর্তা সুশান্ত নায়েক বিবিসিকে বলেন, ‘সাতিগুড়া বাঁধ এলাকায় ৩০ থেকে ৪০টি কুমির আছে। এটি হয়তো ডিম পাড়ার জন্য গ্রামে ঢুকে পড়েছিল। কারণ বাঁধ থেকে এক কিলোমিটার দূরেই গ্রামটির অবস্থান।’ পরে ওই গ্রাম থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরের বালিমেলা নামের একটি জলাধারে কুমিরটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »