বার্তাবাংলা ডেস্ক »

মিসরের গিজায় খুফুর পিরামিড বা গ্রেট পিরামিড পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি। সেই প্রাচীন আমলে কীভাবে বিশাল বিশাল পাথর দিয়ে পিরামিডটি গড়ে তোলা হয়েছিল, তার সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা আজও পাননি গবেষকেরা। এবার যেন পিরামিডকে ঘিরে সেই রহস্য আরও ঘনীভূত হলো। বিজ্ঞানীরা পিরামিডটির ভেতরে একটি ‘বড় শূন্যস্থানের’ সন্ধান পেয়েছেন।
১৪০ মিটার (৪৬০ ফুট) উঁচু খুফুর পিরামিডটি মিসরের রাজধানী কায়রোর উপকণ্ঠে গিজায় অবস্থিত। ফারাও শাসক খুফুর শাসনামলে খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০৯ অব্দ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ২৪৮৩ অব্দের মধ্যবর্তী সময়ে এটি নির্মাণ করা হয়। এই পিরামিড নিয়ে দুই বছর ধরে গবেষণা করছিল জাপান ও ফ্রান্সের একটি গবেষক দল। এ ক্ষেত্রে তাঁরা মিউওগ্রাফি নামের একটি প্রযুক্তির ব্যবহার করেন, যা দিয়ে এই পাথুরে কাঠামোর ভেতরকার ঘনত্বের পরিবর্তন অনুধাবন ও পরিমাপ করা যায়।
খুফুর পিরামিডে তিনটি প্রধান প্রকোষ্ঠ রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে বেশ কয়েকটি যাতায়াতের পথ। এর গ্র্যান্ড গ্যালারির দৈর্ঘ্য ৪৭ মিটার, উচ্চতায় ৮ মিটার। বিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে পিরামিডটির উত্তর প্রান্তীয় এলাকায় একটি ছোট শূন্যস্থানের সন্ধান পেয়েছেন। এবার পাওয়া বড় শূন্যস্থানটি লম্বায় ৩০ মিটার।
প্যারিসের এইচআইপি ইনস্টিটিউটের মেহদি তায়উবি বলেন, ওই শূন্যস্থানের গঠন কেমন, এখনো বুঝতে পারেননি তাঁরা। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু নিশ্চিত হতে পেরেছি যে ওই শূন্যস্থান পিরামিডে রয়েছে এবং তা হৃদয়গ্রাহী। এটির সন্ধান পাওয়ার আগ পর্যন্ত এর অবস্থান সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না আমাদের।’ তবে এই শূন্যস্থানকে এখনই ‘প্রকোষ্ঠ’ বলতে চান না এই বিজ্ঞানী।
এ ব্যাপারে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হ্যানি হেলাল বলেন, ওই শূন্যস্থানের আকারের জন্যই এটি তৈরির কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। কারণ এটি এতটাই বড় যে, চাপ অপসারণের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা পিরামিডের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো এবং এটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল বোঝার চেষ্টা করছি।’

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »