বার্তাবাংলা ডেস্ক »

প্রথম ইনিংসের পরই ম্যাচের ভাগ্য বলে দেওয়া যাচ্ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে ৩৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করা বাংলাদেশের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। সেই ‘প্রায় অসম্ভব’ কিছু করে দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। ১০৪ রানে হেরে ওয়ানডে সিরিজও খুইয়ে বসেছে ।

অথচ জয় না হোক, ৩০০ ছোঁয়ার কথা ভাবতে পারত বাংলাদেশ। মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে দেড় শ রান পেরোনোর পর এমন কিছু তো আর অসম্ভব কিছু নয়! কিন্তু সব লেজে-গোবরে করে দিল মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা। ৮৭ রানে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩ বল আগেই অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচ জয় কিংবা লড়াইয়ের প্রত্যাশা অবশ্য আরও ১৫ ওভার আগেই শেষ।

৩৫৪ রানের লক্ষ্যে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। পঞ্চাশ পেরোনোর আগেই ফিরেছেন তামিম ইকবাল। যদিও রিপ্লে দেখার পর সিদ্ধান্তটা ভুল বলেই মনে হয়েছে। ৬৯ রানে ফিরেছেন ভালো শুরু করা লিটন দাসও। তবে ইমরুল কায়েস ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রান যোগ করে ফিরে গেছেন ইমরুল (৬৮)। কিন্তু ম্যাচের আরও ২১ ওভার বাকি থাকায় ও সাকিব আল হাসানকে নামতে দেখায় আশা ছাড়া যাচ্ছিল না।

কিন্তু চার রান পরের সাকিবও সেমুখো। আশার প্রদীপ বলুন কিংবা বাতি সব হয়ে জ্বলছিলেন শুধু মুশফিক। ৩৪তম ওভারে ৬০ রান করে মুশফিকও আউট হয়ে যেতেই সব ফুরিয়েছে। মাহমুদউল্লাহ (৩৩) শুধু দলকে দুই শই পার করাতে পেরেছেন, ম্যাচ নিয়ে বাড়তি কোনো আগ্রহ জাগাতে পারেননি।

এর আগে কিম্বার্লির প্রথম ওয়ানডেতে কুইন্টন ডি কক-হাশিম আমলা যেখানে শেষ করেছিলেন, বোল্যান্ড পার্কে শুরু করেছিলেন ঠিক সেখান থেকেই। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭.৩ ওভার পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন ছিলেন এ দুই প্রোটিয়া ওপেনার। ১৮তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। তুলে নেন ফাফ ডু প্লেসি ও কুইন্টন ডি কককে। কিন্তু এবি ডি ভিলিয়ার্স নেমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছেন। ডি ভিলিয়ার্স ঝড়ে বাংলাদেশকে ৩৫৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছে স্বাগতিক দল।

আমলার সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১৩৬ রানের জুটি গড়ার পর ডুমিনিকে সঙ্গে রানের গতি বাড়িয়ে চলছেন ডি ভিলিয়ার্স। ৬৮ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৫তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মারকুটে এ ব্যাটসম্যান। সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন গত বছর কেপটাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ১০৪ বলে ১৭৬ রানের ইনিংসে বাংলাদেশের ইনিংসকে তছনছ করে দিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স। ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে সাকিবের বলে লেগ বিফোর হন ডি কক (৪৬)। ঠিক এর দুই বল পরই প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিকে (০) বোল্ড আউট করেন সাকিব। আগের ম্যাচের তুলনায় আজ শুরুতে বেশ ভালো লাইন-লেংথে বোলিং করেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ৫ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ১৮/০। পরের ৫ ওভারে রানের গতি বাড়িয়েছেন ডি কক-আমলা। ১০ ওভার শেষে স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৫০। ভালো শুরু পেলেও বড় জুটি গড়তে পারেননি তাঁরা। সেটি হতে দেননি সাকিব।

ওয়ানডেতে সাকিবের দুর্দান্ত বোলিং দেখা যাচ্ছিল না অনেক দিন ধরে। এই ম্যাচের আগে বাঁহাতি অলরাউন্ডার ওয়ানডেতে সর্বশেষ উইকেট পেয়েছেন সেই মে মাসে, ডাবলিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। টানা চার ওয়ানডেতে ছিলেন উইকেটশূন্য।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »