আওয়ামী লীগের প্রশংসা সিইসির

বিএনপির পর এবার আওয়ামী লীগের প্রশংসায় মুখর হলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন। দেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার কূটনৈতিক সমাধান অর্জনের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব মাতৃকার আসনে সমাসীন হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে সিইসি এসব কথা বলেন। আজ বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বৈঠকে বসেছেন তাঁরা। বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শুরুতেই বক্তব্য দেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী দল। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক, ইয়ার আহমেদ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। বঙ্গবন্ধুর হুকুমে এবং এখানে আওয়ামী লীগের যাঁরা এসেছেন, তাঁদের অনেকের অনুপ্রেরণায় আমরা গ্রেনেড ও অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সকল অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরে। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে দেশ গড়ার উদ্যোগ নেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। পাকিস্তানের মতো দেশকে বাংলাদেশে আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য করেন। ১৯৭৪ এর মধ্যে জাতীয় প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে যায়।

‘১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে কালো অধ্যায় শুরু হয়। পরে জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। দলের প্রধান হন এবং ১৯৮৬ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মুসলিম বিশ্বে প্রথম নারী বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ১৯৯৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেন। ২০০৮ সালের পর ক্ষমতায় বসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেন। বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন।’

কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখন স্বাধীন। আমরা অনেক দেশের নির্বাচন কমিশনের চেয়ে স্বাধীনতা ভোগ করছি। এটা আওয়ামী লীগ সরকার–প্রধান করেছেন।’

সিইসির বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তাঁর রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়, যা এখনো চলছে।