বার্তাবাংলা ডেস্ক »

বাংলাদেশে বুড়ো বয়সে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাই টাকা-পয়সা জমায় কর্মজীবনে থাকতে। সেই কর্মজীবন শেষ হয় জীবনসায়াহ্নে এসে। তখন কি আর নিজের জন্য টাকা-পয়সা খরচের মন-মেজাজ থাকে?

ব্র্যান্ডন এ ব্যাপারটা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন কর্মজীবনের শুরুতেই। আর তাই চাকরির পাশাপাশি অন্যান্য কাজ করে টাকা-পয়সা জমানো শুরু করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং ‘ম্যাড ফিয়েনটিস্ট’ ব্লগার। উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পেলেই তিনি যত দ্রুত সম্ভব চাকরিবাকরি ছেড়ে উপভোগ করবেন জীবনের বাকি সময়কে। সে ভাবনা থেকে ২০১৬ সালের ১ আগস্ট ব্র্যান্ডন আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কর্মজীবনের সমাপ্তি টানেন, মানে চাকরিসহ অন্যান্য কাজ থেকে অবসর নেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র ৩৪ বছর!

অনলাইনে নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে ব্র্যান্ডন তাঁর নামের শেষাংশ প্রকাশ করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ মিতব্যয়ী জীবন যাপন করতেন তিনি। কর্মজীবনে আয়কৃত অর্থের প্রায় ৭০ শতাংশই জমিয়েছেন, সেটাও কর পরিশোধের পর। ২০১৪ সালেই ব্র্যান্ডন বুঝতে পেরেছিলেন, জমানো অর্থ দিয়ে তাঁর বাকি জীবন দিব্যি কেটে যাবে। আর তাই সে বছরই অবসর নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ান তাঁর অফিসের নিয়োগকর্তা। ব্র্যান্ডনকে তিনি আরও বড় পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

সে বছর তাই আর অবসর নেওয়া হয়নি ব্র্যান্ডনের। চাকরি করলেও ক্ষণে ক্ষণে ঘুরতে বেরোতেন স্ত্রী জিলকে সঙ্গে নিয়ে। ২০১৫ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্কটল্যান্ডে চলে আসেন তাঁর স্ত্রী। ব্র্যান্ডন তখনো চাকরি করছেন, ব্লগিং করছেন আর টাকা-পয়সা জমাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত গত বছর ইতি টানেন কর্মজীবনের। তাঁর স্ত্রী জিল পেশায় চোখের ডাক্তার এবং ধ্যানধারণায় স্বামীর উল্টো। ব্র্যান্ডন কিন্তু স্ত্রীর ওপরে কখনোই নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেননি। অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পিছু ছোটার বিষয়টি তিনি সব সময়ই পরিবারের বাইরে রেখেছিলেন।

কর্মজীবন শুরুর প্রথম পাঁচ-সাত বছরে ব্র্যান্ডনের কোনো সঞ্চয় ছিল না। সঞ্চয়ের শুরুতে তাঁর মাথায় ছিল শুধুই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা। পরে অর্থনৈতিক স্বাধীনতাপ্রাপ্তির পিছু ছুটেছেন। অবসরের পর প্রথম বছর চুটিয়ে উপভোগ করেছেন সেই স্বাধীনতা। জীবনধারণের জন্য দিবি সব বিলবাট্টা মেটাচ্ছেন, আবার কাজকম্মোও নেই! কিন্তু মনের ভেতরে পরিবর্তনটা টের পেলেন কিছুদিনের মধ্যেই। ‘ম্যাড ফিয়েনটিস্ট’ ব্লগে মানুষকে কর্মজীবন থেকে দ্রুত অবসর নেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়ার ফাঁকে ব্র্যান্ডন বলেছেন তাঁর নিজের উপলব্ধিও, ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতাপ্রাপ্তির পর বুঝতে পারলাম, টাকা-পয়সা আর আমার প্রেরণা নয়। এ বোধ আমার মনের ভেতরটা নাড়িয়ে দেয় এবং বেশ অস্বস্তি লেগেছে।‘

ব্র্যান্ডন তাঁর ব্লগে আরও লেখেন, ‘পরিণত হওয়ার পর জীবনের এ পথ পর্যন্ত আসার আগে সারাক্ষণ টাকার পিছু ছুটেছি। একটা ভালো কলেজে ভর্তি হতে হাইস্কুলে থাকতেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। কেননা, ভালো কলেজে ভর্তি হলে পরে ভালো চাকরিও মিলবে। চাকরিতে শ্রম দিয়েছি, কেননা তাতে কর্মজীবনে উন্নতি হবে এবং প্রচুর টাকা-পয়সাও আসবে। আয় বাড়ানোর জন্য চাকরির পাশাপাশি অন্যান্য কাজও করেছি, যেমন ব্যবসা। জীবনকে যখন যেভাবে চালাতে চেয়েছি, সেভাবেই তা করতে পেরেছি। এখন আমার প্রচুর টাকা আছে, আর তাই এটা আমার কাছে আর ততটা গুরুত্ব পাচ্ছে না। এটা হতে পারে বেশ স্বস্তিদায়ক একটা পরিস্থিতি, কিন্তু ভালোভাবে বাঁচার জন্য প্রেরণার দরকার হয়, সেটা আমার নেই!’

সারা জীবন টাকার পিছু ছোটার পর ব্র্যান্ডন এখন তাই নতুন প্রেরণা খুঁজছেন। বিষয়টা তাঁর জন্য এখন চ্যালেঞ্জ; বেঁচে থাকতে চাই প্রেরণা! সূত্র: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, বিজনেস ইনসাইডার।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »