মোহাম্মদ কামরুজ্জামান »

বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মানুষ বাংলাদেশের জিন্নাত আলী। সবচেয়ে লম্বা হিসেবে জীবিত মানুষটির বাড়ি কক্সবাজারের রামু গর্জনিয়ায়। বয়স মাত্র ১৯। নাম জিন্নাত আলী। বর্তমান উচ্চতা ৮ ফুট ৬ ইঞ্চি। কৃষক আমির হামজার ঘরে জন্ম বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা জীবিত মানুষটি এখন অসুস্থ। মাথায় টিউমার, ডান পায়ে ঘা হয়ে পচন ধরেছে। এক পা আরেক পায়ের চেয়ে দুই ইঞ্চি খাটো হয়ে যাচ্ছে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না।

তাদের পরিবারে ভিটামাটি ছাড়া আর কোন অর্থসম্পদও নেই। কৃষক পিতা আমির হামজা জানান, ছেলে লম্বা হওয়ার কারণে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিক্সা, সিএনজি, মাইক্রো, জীপ গাড়িতে বসানো যায় না। আমার পক্ষে তার শরীরের দুরবস্থা নিয়ে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

তারপরও চিকিৎসার জন্য গত বছর স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা নিয়ে যাবার পরামর্শ দেন। কষ্ট করে খেয়ে না খেয়ে ছেলের জীবন রক্ষার্থে কিছু টাকা জোগাড় করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিধিবাম! হাতে করে নিয়ে যাওয়া টাকায় কিছুই করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নেয়ার পর ব্যয়বহুল চিকিৎসার কথা শুনে চমকে উঠি। আমি গরিব, এত টাকা পাই কোথায়?

টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে ফেরত নিয়ে আসি বাড়িতে। তখন থেকে ছেলেটির বয়স বাড়ার সঙ্গে আরও লম্বা হতে থাকে। লম্বা ছেলেটির খাবারও দিতে হয় প্রচুর। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ঘরে বসে কাঁদছে জিন্নাত আলী।

জানা যায়, ভোলার জেলার লাল মোহন উপজেলার এলজিইডি অফিসের নৈশ প্রহরী মুসলে উদ্দিন তার উচ্চতা ৭ ফুট ৭ ইঞ্চি। মাত্র দেড় ইঞ্চির জন্য তিনি গিনেজ ওয়ার্ল্ডবুকে নাম লেখাতে পারেনি। তবে রামুর গর্জনিয়ার বাসিন্দা জিন্নাত আলী তার চেয়েও অধিক লম্বা। তাই ধারণা করা হচ্ছে জিন্নাত আলী বাংলাদেশের সবচেয়ে লম্বা ব্যক্তি।

মা শাহাফুরা বেগম জানান, ছেলে লম্বা হওয়ার কারণে খাদ্য জোগানও দিতে হচ্ছে বেশি। শারীরিক অবস্থা ভাল নয়। মাথায় টিউমার, ডান পায়ে ঘা হয়ে পচন ধরেছে। এক পাও আরেক পায়ের চেয়ে দুই ইঞ্চি খাটো হয়ে যাচ্ছে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাও সম্ভব হচ্ছে না। তাদের পরিবারে ভিটে মাটি ছাড়া আর কোন অর্থ সম্পদও নেই। সূত্র : জনকণ্ঠ

পিতা আমির হামজা জানান, ছেলে লম্বা হওয়ার কারণে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়াও মুশকিল হয়ে দাড়িয়েছে। রিক্সা, সিএনজি, মাইক্রো, জীপ গাড়িতে বসানো যায় না।

চিকিৎসার জন্য গত এক বছর আগে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের নেওয়ার পর ব্যয়বহুল টাকার প্রয়োজন হওয়ায় চিকিৎসার অভাবে আবারো বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে লম্বা মানুষটির শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বয়স মাত্র ১৯ বছর। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সে আরো লম্বা হয়ে যাচ্ছে। তবে বিভিন্ন রোগ ব্যাধি তাকে আক্রান্ত করায় বর্তমানে তেমন একটা নড়াচড়া ও কোন ধরনের কাজ করতে পারছে না। এলাকাবাসীর দাবি এই লম্বা মানুষটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, ছেলেটির বয়স কম হলেও সে অনেক লম্বা হয়ে গেছে। পরিবারের পক্ষে তার শরীরের দুরাবস্থা নিয়ে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »