রাখাইনে ‘উগ্রবাদী সহিংসতায়’ উদ্বিগ্ন ভারত

রাখাইনে ‘উগ্রবাদী সহিংসতায়’ মিয়ানমারের মতোই উদ্বিগ্ন ভারত। আজ বুধবার মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগের কথা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

রাখাইনে কথিত মুসলিম বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর অন্তত দেড় লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার অভিযানে মিয়ানমার সরকারের সমালোচনায় মুখর। তবে মোদি তাঁর আজকের বক্তব্যে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ এবং শান্তি বজায় রাখার তাগিদ দিলেও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় সফরে মোদি মিয়ানমার গেলেন। এর আগে অবশ্য আসিয়ান সম্মেলনে অংশ নিতে ২০১৪ সালে দেশটিতে গিয়েছিলেন তিনি। মোদির এ সফরকে এ অঞ্চলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করে চীনের প্রভাব খর্ব করতে ভারতীয় প্রচেষ্টার অংশ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত ২৪ আগস্ট জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের মিয়ানমার নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে রাখাইনে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। ওই রাতেই রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০টি চৌকিতে হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা। সহিংসতায় আরসার সদস্যসহ অন্তত ১১০ জন নিহত হয়। এ হামলার পরপরই রাখাইনে নির্বিচারে দমন অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। আর পরদিন থেকে বাংলাদেশে হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রাণভয়ে পালিয়ে আসতে শুরু করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা দাবি করেছে, রাখাইনে নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হাজার হাজার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এসবের উপগ্রহ চিত্র আছে। আর ইউএনএইচসিআর গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে আন্তর্জাতিক জরুরি সহায়তা চেয়েছে।

আজ সু চির সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ঢল নিয়ে কোনো কথা স্পষ্ট করে বলেননি। তিনি বলেন, ‘রাখাইনে “উগ্রবাদী সহিংসতায়” মিয়ানমারের মতোই উদ্বিগ্ন ভারত। বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা এবং এর ফলে নিরীহ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ভারত উদ্বিগ্ন।’

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোয় আজ এই সংবাদ সম্মেলনে মোদি আরও বলেন, ‘মিয়ানমারের ঐক্য এবং অখণ্ডতা যেন অক্ষুণ্ন থাকে সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ একটি পথ নির্দেশ করবেন বলে আমরা আশা করি। একই সঙ্গে শান্তি, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখার বিষয়েও আমরা আশাবাদী।’

আর সংবাদ সম্মেলনে মোদি উদ্বেগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সু চি বলেন, ‘আমাদের দেশে কয়েক সপ্তাহ আগে সংঘটিত সন্ত্রাসী হুমকির পর ভারতের কঠোর অবস্থানের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।’ সু চি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশ থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করতে আমরা একত্রে কাজ করতে পারি।’