অস্ট্রেলিয়া লিড পেলেও দিনের শেষটা বাংলাদেশের

আর একটি মাত্র উইকেট। এটাও যদি শেষ মুহূর্তে তুলে নিতে পারতো বোলাররা, তাহলে হয়তো বা আজই ব্যাট করতে পারতো বাংলাদেশ। কিংবা আগামীকাল দিনের শুরুতেই হয়তো ব্যাট হাতে নামতে পারতেন তামিম-সৌম্যরা। তবে লেজটা রেখেই দিল অস্ট্রেলিয়া। উইকেটে এখনও টিকে রয়েছেন নাথান লায়ন এবং স্টিভেন ও’কিফ। অস্ট্রেলিয়ার রান তৃতীয় দিন শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৭৭। লিড ৭২ রানের।

বাংলাদেশের ৩০৫ রান টপকে লিড নিয়েই ফেলেছে অস্ট্রেলিয়ানরা। শুধু তাই নয়, লিড প্রায় পৌনে এক শ’। চট্টগ্রামের যে উইকেট, তাতে লিডটা নেহায়েত কম নয়। তবুও বলতে হবে, অস্ট্রেলিয়া লিড নিলেও দিনের শেষ অংশটা বাংলাদেশেরই। কারণ, বৃষ্টি শেষে দুপুরের দিকে খেলা শুরু হওয়ার পর পিটার হ্যান্ডসকম্ব এবং ডেভিড ওয়ার্নার যেভাবে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন, তাতে প্রথম ইনিংসেই অনেক বড় লিড দাঁড় করিয়ে ফেলবে মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া।

কিন্তু হ্যান্ডসকম্বের রান আউট, মোস্তাফিজের ব্রেক থ্রু বাংলাদেশকে খেলায় ফিরিয়ে আনে। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ চেপে বসেন অস্ট্রেলিয়ানদের ওপর। এর মধ্যে নিজের ক্যারিশমা অব্যাহত রাখেন মোস্তাফিজও। দিনের শেষ দিকে এসে উইকেটের দেখা মেলে সাকিবেরও। সুতরাং, বলাই যায়- লিড পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে তৃতীয় দিনের শেষ অংশটা বাংলাদেশের বোলারদের।

ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। দুই ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন। ব্যাট হাতেও প্রথম ইনিংসে ছিলেন সর্বোচ্চ স্কোরার। সেই সাকিব আল হাসান চট্টগ্রাম টেস্টে এসে যেন খানিকটা নিষ্প্রভ। তার বলগুলো বিপজ্জনকভাবে বাঁক খেয়ে অস্তস্তিতে ফেলছিল অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের; কিন্তু দুর্ভাগ্য তার উইকেটের দেখাই মিলছিল না। অবশেষে সাকিব সাফল্যের মুখ দেখলেন। অসাধারণ এক ঘূর্ণিতে ফেরালেন ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা অ্যাস্টন অ্যাগারকে।

ইনিংসের ১১৭তম ওভারের শেষ বলে উইকেটের অনেক বাইরে স্পাইক আর বুটের আঘাতে তৈরি হওয়া ক্ষতের ওপর বল ফেলে টার্ন করান। সেটিই সোজা ভেতরে ঢুকে গিয়ে ভেঙে দেয় অ্যাগারের উইকেট। ৩৭৬ রানে পড়লো নবম উইকেট। ৩৫ বল খেলে অ্যাগার করলেন ২২ রান। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ১১৯ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৭৭। লিড ৭২ রানের। উইকেটে রয়েছেন স্টিভেন ও’কিফ ৮ রানে এবং নতুন নামা নাথান লিওন শূন্য রানে।

এর আগে স্পিনারদের ট্র্যাকে ভালোই ঝড় তুললেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। গতকাল ইনিংসের শুরুতে তিনিই প্রথম ব্রেক থ্রুটা এনে দিয়েছিলেন ম্যাট রেনশকে আউট করে। আজও সেঞ্চুরিয়ান ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে দারুণ ব্রেক থ্রু এনে দেন তিনি। তার দেখানো পথ ধরে মেহেদী হাসান মিরাজও জ্বলে উঠলেন। শেষ দিকে এসে আবারও দুই বন্ধু মোস্তাফিজ এবং মিরাজ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে আঘাত হানলেন। প্রথমে মোস্তাফিজ ফেরালেন ম্যাথ্যু ওয়েডকে। পরের ওভারেই ম্যাক্সওয়েলকে ফেরালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এর খানিক পর প্যাট কামিন্সকেও এলবির ফাঁদে ফেলেন অফ স্পিনার মিরাজ।