বার্তাবাংলা ডেস্ক »

jinaidahoবার্তাবাংলা রিপোর্ট :: আসামি গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহের মহেশপুরে গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ইন্তাদুল ইসলাম মণ্ডল (৩০) নামে একব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পুলিশসহ কমপক্ষে ২৫ জন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ভোরে মহেশপুর উপজেলার পূর্ব দারিয়াপুর গ্রামে গ্রামবাসী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত ও ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ অনেকে আহত হয়েছেন।

নিহত ইন্তাদুল মহেশপুর উপজেলার নাটিমা ইউনিয়নের দারিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবারের দাবি, পুলিশের গুলিতে ইন্তাদুল নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশ তা অস্বীকার করেছে।

আহতরা হলেন: মহেশপুর উপজেলার তুলশি তলা গ্রামের লুৎফর রহমান (৩০), পূর্ব দারিয়াপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান, শহিদুল ইসলাম ও শহিদুর রহমান। আহতদের যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক মেম্বার ইয়ার আলী প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে দেশ টিভিকে বলেন, মহেশপুর উপজেলার পূর্ব দারিয়াপুর গ্রামে রাত ৩টার দিকে হরতালে নাশকতা, পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার মামলার আসামি ধরতে যায়। প্রতিটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে।

গ্রামবাসী মাইকিং করে জোটবদ্ধ হয়ে এ কাজে বাধা দেয়—এ কথা উল্লেখ ইয়ার আলী বলেন, গ্রামবাসী ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় তারা পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে গুলি চালায় পুলিশ।

একপর্যায়ে পূর্ব দারিয়াপুর গ্রামের ইন্তাদুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

আতিয়ার রহমান, সহিদুল ইসলাম, লুৎফুর রহমান ও শহিদুর রহমান নামে আরো ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন বলে জানান তিনি।

ইউপি মেম্বার সাইফুর রহমান জানান, পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে ইন্তাদুল নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

পুলিশ পূর্ব দারিয়াপুর গ্রামের আজিবর বক্স, হায়দার আলী, নজিরউদ্দীন, আতিয়ার রহমান, শরিফুল ইসলাম, মাহমুদ, আব্দুস সাত্তার, লিয়াকত হোসেন ও শুকুর আলীসহ বেশ কেয়কটি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে তছনছ করে। এ ঘটনায় গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশ সদস্যরা আসামি ধরতে পূর্ব দারিয়াপুর গ্রামে পৌঁছালে তারা দলবদ্ধ হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ভ্যান ভাঙচুর করে তারা। এ সময় গ্রামবাসীর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের অনেক সদস্য আহন হন।

পুলিশের গুলিতে নিহতের খবর তিনি অস্বীকার করেন। তবে সংঘর্ষে একজন মারা গেছে বলে তিনি জানান।

পূর্ব দারিয়াপুর গ্রামে শত শত মানুষ মৃতদেহ ঘিরে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করছে।

এদিকে, মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দীন ইন্তাদুলকে যুবদলের ওয়ার্ড প্রচার সম্পাদক ও গুলিতে আহত শহিদুল ও লুৎফরকে বিএনপি কর্মী বলে দাবি করেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মহেশপুর থানায় কোনো মামলা হয়নি।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »