রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়িতে ফের হামলা, নিহত অনেক

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যে ২৪টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনাঘাঁটিতে ‘জঙ্গিদের’ সমন্বিত হামলায় কমপক্ষে ২১ জন ‘রোহিঙ্গা মুসলিম বিদ্রোহী’ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ জন সদস্য নিহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে। লড়াই এখনো চলছে।

দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। এই সংগঠনটি আগে হারাকাহ আল-ইয়াকিন বা ‘ফেইথ মুভমেন্ট’ নামে পরিচিত ছিল।

এই হামলার মাধ্যমে রাজ্যটিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। গত বছরের অক্টোবরে ওই সংগঠনের একই ধরনের একটি হামলায় নয় পুলিশ নিহত হওয়ার পর রাজ্যটিতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সহিংস অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী।

ওই সেনা অভিযানে বেসামরিক লোককে হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেনাবাহিনীর ওই সহিংস অভিযানের কারণে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। জাতিসংঘের অভিযোগ, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে।

শুক্রবারের এই হামলার ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, ওই নির্যাতনের জের ধরে রাখাইনে বিদ্রোহ জোরদার হচ্ছে। রাজ্যের দুর্গম পার্বত্য এলাকায় চলতি মাসে নিরাপত্তা বাহিনী নতুন ‘নির্মূল অভিযান’ শুরু করলে পরিস্থিত আরও খারাপ হয়ে পড়ে। সেনা সূত্র জানায়, শুক্রবারের হামলায় একজন সেনা সদস্য, পুলিশের ১০ জন সদস্য ও ২১ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে।

দুটি সেনা সূত্র রয়টার্সকে বলে, এই হামলায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়তে পারে।

মিয়ানমারের নেতা অং সান সু চির কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নিউজ টিম এক বিবৃতিতে বলেছে, উগ্রপন্থী বাঙালি বিদ্রোহীরা রাজ্যের উত্তরে মাংদো অংঞ্চলের একটি থানায় গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে হাতে তৈরি বোমা দিয়ে হামলা চালায়। এ ছাড়া কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়িতে সমন্বিত হামলা চালায়।

বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে মর্যাদাহানিকর শব্দ প্রয়োগের অংশ হিসেবে ‘বাঙালি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।