বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বন্দর নগরীর কুরবানির বাজারে ক্রেতার আনাগোনা পুরোদমে শুরু না হলেও বিক্রেতাদের হাঁকডাক থেমে নেই। এবারের কুরবানিতে দেশীয় গরুর পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলা হলেও সাগরিকা ও বিবিরহাট গরুর বাজারে ভারতীয় গরুর উপস্থিতিই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বেপারি ও ব্যবসায়ীরা গরু নিয়ে বাজারমুখী রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাজার ইজারাদাররা। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সিএমপি কর্মকর্তার প্রাথমিক হিসেবে চট্টগ্রাম নগরীর পশুর হাটে এবার কমপক্ষে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হবে। ব্যবসায়ী ও হাটের ইজারাদারদের মতে, গরুর দাম এবার খুব বেশি হবে না। দুয়েক দিনের মধ্যে উত্তরবঙ্গ থেকে আসছে পশু। এ ছাড়া ভারত, মিয়ানমার ও নেপালের গরুও এসেছে। নগরীর স্থায়ী দুটি বাজারের সঙ্গে শনিবার থেকে অস্থায়ী ৬টি বাজারেও আনুষ্ঠানিকভাবে কুরবানির পশু বেচাকেনা শুরু হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, কুরবানির গরুর বাজারে এখনো ক্রেতাদের আসা শুরু হয়নি। কারণ, ঈদের এখনো ৭ দিন বাকি। তবে অনেকে বাজার ঘুরে বিভিন্ন পশুর দাম যাচাই-বাচাই করছেন।

নগরীর সবচেয়ে বড় গরুর বাজার সাগরিকা বাজারের ইজারাদার সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর জানান, বাজারে ৫ হাজারের মতো হাজার গরু রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বেপারি ও ব্যবসায়ীরা গরু নিয়ে বাজারমুখী হচ্ছেন। এবার নগরীতে অনুমোদিত পশুর হাট রয়েছে ১০টি। এবার কোনো অবস্থাতেই রাস্তায় পশুর হাট বসাতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছিল চসিক। নগরীর স্থায়ী দুটি পশুর হাট হলো সাগরিকা ও বিবিরহাট এলাকায়। অস্থায়ী ছয়টি হাট হচ্ছে- কর্ণফুলী গরুর বাজার (নূরনগর হাউজিং), সল্টগোলা রেল ক্রসিং, স্টিল মিল বাজার, কমল মহাজন হাট, পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় এবং পোস্তার পাড় স্কুল এলাকায় অবস্থিত।

নগরীর সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী সাগরিকা ও বিবিরহাট গরু বাজার বৃহস্পতিবার সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিচ্ছিন্নভাবে গরুবাহী ট্রাক বিভিন্ন হাটবাজারে ঢুকছে। তবে সাগরিকা ও বিবিরহাট গরুর বাজারে দেশীয় গরুর চেয়ে ভারতীয় গরুর উপস্থিতিই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিবিরহাট বাজারে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও বড় গরু এনেছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপার বেপারি মো. পান্না। তিনি জানান, প্রতি বছরেই ৩-৪টি বড় গরু নিয়ে চট্টগ্রামের বাজারে আসি। এ বছর তার কাছে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ লাখ টাকা ও সর্বনি¤œ ৩ লাখ টাকা দামের গরু আছে বলে জানান। স্বাভাবিক খাবারেই গরুগুলোকে মোটাতাজা করেছেন বলে জানান তিনি। পাবনা থেকে আসা আরেক ব্যবসায়ী মো. সাচ্চু বলেন, ১৬টি ভারতীয় গরু নিয়ে বুধবার রাতে এসেছি। সব গরু ২ লাখের উপরের দাম রাখা হয়েছে।

এদিকে বিবিরহাট গরুর বাজারের ইজারাদার জামশেদ খান বলেন, বাজারে ইতোমধ্যেই ২ হাজারেও বেশি গরু এসেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে গরুবাহী অনেক ট্রাক এখনো রাস্তায় রয়েছে। আগামী শনিবার থেকে পুরোদমে কেনাবেচার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দুয়েক দিনের মধ্যে উত্তরবঙ্গ এবং চট্টগ্রামের আশপাশের এলাকা থেকে গরু আসবে। তিনি বলেন, ক্রেতারা এখনিই গরু না কিনলেও বাজার যাচাই-বাছাই করছেন। গরু কিনলে তা লালন-পালনের বিষয় থাকে। তবে ঈদের দুই-তিন দিন আগে থেকে বাজারে ক্রেতাদের সমাগম বাড়বে।

বিবিরহাট ও সুন্নিয়া মাদ্রাসার মাঠের ডোগা ও বিট মালিক আলী আকবর প্রকাশ অকবর মামা বলেন, গরু আসতে শুরু করেছে। পর্যাপ্ত জায়গা নিয়ে গরু রাখা-দেখভাল করাসহ রাতে থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। কুরবানির পশুর ওপর প্রচণ্ড রোদ-বৃষ্টি যাতে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রেখে সম্পূর্ণ বাজার রয়েছে ছাউনি বেষ্টনীতে ঘেরা। তিনি বলেন সব সাইজের পশু পাওয়া যাবে অতি অল্প দামে। এবারের বিবিরহাট বাজারে ১০ হাজারেরও বেশি পশুর সমাগম হবে। আশা করি, এবার চট্টগ্রাম নগরীতে কুরবানি পশুর কোনো ঘাটতি থাকবে না।

জাল টাকা শনাক্ত ও নিরাপত্তায় প্রস্তুত র‌্যাব-পুলিশ : ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরীতে দেড় লাখ গরু-মহিষ ও প্রায় ৩০-৪০ হাজার ছাগল-ভেড়া কুরবানি দেয়া হতে পারে- এমনটাই আশা করছেন সিএমপি কর্মকর্তারা। নগরীর বিভিন্ন বাজারে পশু বিক্রি হবে। এই বিপুল-সংখ্যক পশু কেনাবেচায় হাতবদল হবে কমপক্ষে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ঈদের দিন পশুর চামড়া বিক্রিতে হাতবদল হবে কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা। এই পুরো টাকাটাই লেনদেন হবে হাটে, মাঠে, রাস্তায়। কুরবানির পশুর হাটই শুধু নয়, এরপর পশুর চামড়া বিক্রির সময়েও প্রচুর টাকা লেনদেন হয়, তাই র‌্যাব-পুলিশ বিভিন্নভাবে নগরবাসী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও র‌্যাবের কর্মকর্তারা। এদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা রেয়াজুল হক ভোরের কাগজকে বলেন, চট্টগ্রামে মহানগর ও জেলায় মোট ১৯৬টি পশুর হাট বসবে। প্রত্যেক বাজারে আমাদের মেডিকেল টিম থাকবে। কুরবানিতে গরু লাগবে আনুমানিক ৬ লাখের কাছাকাছি। কুরবানি পশু পর্যাপ্ত রয়েছে। পশুর সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »