বার্তাবাংলা ডেস্ক »

প্রায় সব দাবি মেনে নেওয়ায় আন্দোলনের বিষয়ে নমনীয় হয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে আজ শনিবার রাতে বৈঠক করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামীকাল রোববার জানাবেন তাঁরা।

রাতের বৈঠকে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী এক ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাত পৌনে নয়টার দিকে বলেন, তাঁরা কিছু শর্ত দিয়ে দাবি মানার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে যেহেতু অনেক শিক্ষার্থী নিয়ে এই আন্দোলন হয়েছে—তাই অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্তটি জানাতে চান তাঁরা। এ ছাড়া রেজিস্ট্রারকে দীর্ঘ মেয়াদে ছুটি দেওয়ার বিষয়টি আসলে কি সেটাও তাঁরা বোঝার চেষ্টা করছেন। এসব কারণে একটু সময় নিচ্ছেন।

এর আগে আজ বিকেলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. শাহুল আফজালকে দীর্ঘ মেয়াদে ছুটিতে পাঠানো হয়। যা আগামীকাল রোববার থেকে কার্যকর হবে। শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহমেদের অব্যাহতিপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর শিক্ষককে লাঞ্ছনার অভিযোগে অভিযুক্ত সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মাহিউদ্দিন ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জাভেদ রাসেল পদত্যাগ করেছেন এবং তা উপাচার্য গ্রহণও করেছেন।

চুক্তিতে থাকা আইন বিভাগের শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহমেদকে চাকরিচ্যুতির নোটিশের জের ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের এক সপ্তাহের মাথায় আজ এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সিদ্ধান্তের মধ্যে আরেকটি হলো, নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে ছাত্রীর লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সংক্রান্ত কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সব পরীক্ষা আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হবে। আর এই ঘটনায় ইতিমধ্যে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি তাদের কাজ অব্যাহত রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত জানার পর আলোচনায় বসেন আন্দোলন শিক্ষার্থীকে অনেকে।

শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছিলেন বর্তমান রেজিস্ট্রার শাহুল আফজালের অধীনে তাঁরা কোনো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেবেন না। এ ছাড়া শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহমেদকে চাকরিতে পুনর্বহাল ও তাঁকে ‘লাঞ্ছিতকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির বিচার করতে হবে। এসব দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জের ধরে আজও একটি বিভাগের পরীক্ষা হয়নি। দুপুরে মহাখালীতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা বাইরে এদিক-সেদিক অবস্থান করছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে আসছেন, শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহমেদকে গত ৩০ জুলাই মানবসম্পদ বিভাগ থেকে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকৃতি জানালে রেজিস্ট্রার বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা তাঁর আইডি কার্ড নিয়ে নেন এবং তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন নামেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »