পায়রা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

hasina-31বার্তবাংলা রিপোর্ট :: ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের ১৭৯ কিলোমিটারে পায়রা নদীর ওপর দক্ষিণাঞ্চলবাসীর অনেকদিনের প্রাণের চাওয়া কাঙ্খিত পায়রা সেতুর (লেবুখালী সেতু) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪০মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।এ সময় দাতা সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কমলেন্দু মজুমদার জানান, চার লেন বিশিষ্ট ১ হাজার ৪শ’ ৭০মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার প্রস্থের এ সেতুতে সংযোগ সড়ক থাকছে ৮৯০মিটার (নদীর উত্তরপাড় বরিশাল প্রান্ত ৩শ’ মিটার এবং দক্ষিণ পাড় পটুয়াখালী প্রান্ত ৫৯০ মিটার)।

এছাড়া ৩২টি স্প্যান, ৩১টি পিয়ার, ২টি এবাটমেন্ট এবং সেতুর দু’পাশে দশমিক ৯০ মিটার করে ফুটপাতের ব্যবস্থা রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার ও ‘কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনোমিক ডেভলপমেন্ট’ (কেএফএইডি) এর যৌথ অর্থায়নে সেতুটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

সেতু নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৪শ’ ১৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ৭৭ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং দাতা সংস্থা ‘কেএফএইডি’ দিচ্ছে ৩৩৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

২০১২ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হবে আগামী ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে।

সেতুটি নির্মিত হলে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর অনেকদিনের আশা পূরণ হবে।

এ সেতু নির্মিত হলে পটুয়াখালী ও বরগুনার সঙ্গে বরিশাল এবং ঢাকাসহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগে প্রায় ১ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় ব্যয় থেকে রক্ষা পাবে লাখ লাখ যাত্রী।

পাশাপাশি ঢাকা-মাওয়া-পটুয়াখালী ১৯১ কিলোমিটার এবং ঢাকা-কুয়াকাটা ২৬৩ কিলোমিটার সড়ক যাতায়াতে মাওয়া ছাড়া ফেরিবিহীন নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে পর্যটকসহ যাত্রীরা। আর পটুয়াখালীবাসী বরিশাল যেতে পারবে ফেরিবিহীন নিরবচ্ছিন্ন মহাসড়ক দিয়ে।

এছাড়াও জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের উৎপাদিত মৎস্য সম্পদ ও কৃষিপণ্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন ও বাজারজাতকরণ অনেক সহজতর হবে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের অক্টোবরে পায়রা নদীর লেবুখালী অংশে ‘সাইট সিলেকশন’ করা হয়। এরপর দু’দফায় নদীর উভয়পাড়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করে নদীর নাব্যতা, গভীরতা, ভাঙনের গতিসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

২০১১ সালের ২৯ জানুয়ারি পায়রা নদীতে আরব ইকোনমি ডেভেলপমেন্টের (কেএফএইডি)-বাংলাদেশ যৌথ সমীক্ষা চালায়।

একই বছরের ২৫ অক্টোবর পায়রা নদীর ওপর লেবুখালী ব্রিজের সম্ভাব্যতা যাচাইর লক্ষে সরেজমিন পরিদর্শন করেন তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দাতা সংস্থা আরব ইকোনমি ডেভেলপমেন্ট (কেএফএইডি)এর ৩ জন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা লিগ্যাল অ্যাডভাইজার মি. নওয়াফ আলমাহমেল, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাডভাইজার ডা. হিসাম কামাল এবং ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ডা. কামাল নাসের।

এর ৪ দিন পর ২৯ অক্টোবর সোমবার দাতা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যুগ্ম সচিব এটিএম মোস্তফা কামাল এবং কুয়েত ফান্ডের পক্ষে সংস্থার আইন উপদেষ্টা নাওয়াফ আলমাহামেল ঋণ চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তিতে সেতু নির্মাণে কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকনমিক ডেভেলপমেন্ট (কেএফএইডি) বাংলাদেশকে ৩৩৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা ঋণ সহয়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »