মুম্বাইয়ে ভবনধস, নিহত ১৭

ভারতের মুম্বাইয়ে একটি চারতলা ভবনধসে এক শিশুসহ ১৭ জন নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলির ঘাটকোপার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিশ ভবনধসের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রধান অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তা প্রভাত রাহাংদেল বলেন, সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে তাঁরা জানতে পারেন, ঘাটকোপারের দামোদর পার্ক এলাকায় একটি ভবনধসে বহু লোক আটকা পড়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা সেখানে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে ২৪ জনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকাজ চলার সময়ে ফায়ার সার্ভিসের দুজন উদ্ধারকর্মী আহত হন।

পুলিশ জানায়, বাড়ির নিচতলা নার্সিং হোম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এ ছাড়া ১২টি পরিবার সেখানে বাস করত। স্থানীয় সাবেক জনপ্রতিনিধি প্রবীণ চেদ্দা বলেন, নার্সিং হোমটি সুনীল শিটাপ ও স্বাতী সুনীল শিটাপ নামের দুজন চালাতেন। আবাসিক ভবনে নার্সিং হোম চালানো ও দায়িত্বে অবহেলার জন্য সুনীল শিটাপের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে।

এ বছরের শুরুতে স্বাতী সুনীল শিটাপ শিবসেনা দলের পক্ষ থেকে মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ওই নার্সিং হোম দুই মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

বর্ষার সময় ভবনধসের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে অবৈধভাবে নির্মিত ভবন ও ব্যবহার-অনুপযোগী ভবনে বসবাসের কারণে এমন সব দুর্ঘটনা ঘটছে। গত বছরের আগস্টে মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠে বিহন্দিতে একটি দোতলা ভবনধসে আটজন নিহত হয়। পরে অক্টোবরে মুম্বাইয়ের পূর্ব বান্দ্রা এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবন ভেঙে ছয় শিশু মারা যায়।

২০১৫ সালের আগস্ট মাসে মুম্বাইয়ের বাইরে জলোচ্ছ্বাসে একটি ভবন ভেঙে পড়ে ১২ জন নিহত হয়। একই মাসে মুম্বাই উপকূলে ঠাকুরলি এলাকায় বৃষ্টিপাতের সময় আরেকটি পুরোনো তিনতলা ভবন ভেঙে নয়জন মারা যায়।