বার্তাবাংলা ডেস্ক »

আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনভাবে চিকুনগুনিয়া মোকাবেলা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের প্রচণ্ড জ্বর হবে, ১শ ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি বা তারও বেশি তাপমাত্রা হতে পারে। অসহনীয় মাথা ব্যথা ও বমি বমি ভাব হতে পারে। হাড়ে বিশেষত গিটে গিটে অসহনীয় ব্যথা হয়। তবে জ্বর ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে কমলেও শরীর ও গিরায় ব্যথা এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। বক্তারা বলেন, এই রোগে মস্তিষ্কে ইনফেকশন হলেও তা বিরল। এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, লাখে ১৭ জন মস্তিষ্ক সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন।

চিকুনগুনিয়া রোগের এখনো কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল খেতে হবে। প্রচুর পানি, শরবত, ওরস্যালাইন ও ডাবের পানি খেতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

মশাবাহিত রোগ হওয়ায় খুব সহজেই চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করা যায়। এডিস মশা দিনে কামড়ায়, তাই দিনের বেলায় সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় ঘুমালে মশারি ব্যবহার করতে হবে। মশার বংশবিস্তার রোধ করতে বাসার আশেপাশে পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। কোনো ব্যক্তি একবার চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে পববর্তীতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। চিকুনগুনিয়ায় কেউ কেউ মারা গেলেও যেহেতু এ রোগের চিকিৎসা আছে তাই মরণঘাতী নয়। সুতরাং আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনভাবে এ রোগ মোকাবেলা করতে হবে।

বাংলাদেশসহ পৃথিবীর ৬০টি দেশে বিভিন্ন সময়ে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ২০০৮ ও ২০০৯ সালেও বাংলাদেশে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস জ্বর হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায় ১৯৫২-৫৩ সালে এডিস মশার কারণে এই ভাইরাস বিস্তার লাভ করেছিল। সচেতনতাই এ রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »