বার্তাবাংলা ডেস্ক »

১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীর জীবনে মাসিক একটি নিয়মিত ঘটনা। মাসিকের ঠিক আগের সময়টায় মেজাজ খিটখিটে, মন খারাপ ভাব, বিরক্তি, হঠাৎ খিদে পাওয়া, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, পেটে অস্বস্তি, ডায়ারিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দেয়। আবার প্রথম দিনটিতে ব্যথা, মন-মেজাজের ওঠা-নামা, ক্লান্তি-দুর্বলতার মতো কতগুলো পরিস্থিতি পার করতে হয় নারীদের। এ অবস্থায় নারী কর্মীদের একটু হলেও স্বস্তি দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দিয়েছে ভারতের মুম্বাইয়ের কালচার মেশিন নামের একটি ডিজিটাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠান। তারা নারী কর্মীদের মাসিকের প্রথম দিনে সবেতন ছুটি দিচ্ছে। এ বছরের চলতি মাস থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে।

এনডিটিভি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, কালচার মেশিন নামের প্রতিষ্ঠানটিতে ৭৫ জন নারী কর্মী আছেন। প্রতিষ্ঠানের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রতিষ্ঠানটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, নারী কর্মীরা বিশেষ দিনগুলোতে তাঁদের কেমন লাগে, সে কথা বলছেন। ভিডিওর শেষের দিকে যখন তাঁদের জানানো হয়, প্রতিষ্ঠান তাঁদের জন্য মাসিকের প্রথম দিনে ছুটির ব্যবস্থা করেছে, সবাই তখন এটিকে স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ প্রেসিডেন্ট দেবলীনা এস মজুমদার বলেন, ‘বেশির ভাগ নারীর জন্য প্রথম দিনটা অস্বস্তির। সত্যটার মুখোমুখি হওয়ার সময় এসেছে। এটা বিব্রত হওয়ার কোনো বিষয় না। এটা জীবনের অংশ।’

কালচার মেশিনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ভেঙ্কট প্রসাদ এমন সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের সহকর্মীরা স্বস্তিবোধ করুক। ভারতের মতো দেশ, যেখান নারীর ক্ষমতায়ন এখনো অধরা, সেখানে এমন একটি বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই।’

কালচার মেশিন শুধু নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নতুন এই নিয়ম চালু করে ক্ষান্ত হয়নি; ভারতে সব কর্মজীবী নারীর জন্য এই ছুটির ব্যবস্থা করতে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এবং নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয় যাতে উদ্যোগ নেয়, সে ব্যাপারে সবাইকে নিয়ে গণ-আবেদন করতে যাচ্ছে।

জাপান, চীন, তাইওয়ান ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু প্রতিষ্ঠান নারী কর্মীদের জন্য এমন ছুটির ব্যবস্থা রেখেছে। গত বছর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কর্মজীবী নারীদের জন্য মাসিককালীন ছুটি নীতির ব্যাপারে আলোচনা করেছিল। সেটা খুব বেশি দূর এগোয়নি। তবে বিহার সরকারের তাদের নারী কর্মীদের জন্য এমন একটি নীতি আছে। বিহার সরকারের কিছু বিভাগের নারী কর্মীরা ‘শারীরিক কারণে’ প্রতি মাসে দুদিন ছুটি পান। বিহারের এই উদাহরণ আর কালচার মেশিন নামের প্রতিষ্ঠানটির গণ-আবেদনে সরকার নড়েচড়ে বসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনেকে যে এমন উদ্যোগের সমালোচনা করবেন, সেটা প্রতিষ্ঠানটি আগেই আঁচ করতে পেরেছে। সেসব ব্যক্তির উদ্দেশ ভিডিওতে কালচার মেশিনের কনটেন্ট বিভাগের প্রধান রুচির যোশী বলেন, ‘অনেক পুরুষ হয়তো বলাবলি করছেন যে নারীরা মাসিকের প্রথম দিনে ছুটি পাবে, তাদের কোনো কাজ করতে হবে না, আরামে সময় কাটাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পুরুষেরা কখনো এমন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যায়নি বলে তারা এ সময়ে নারীর কষ্টটা বুঝতে পারে না।’

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »