রাজধানীতে বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

bnp vaolenceবার্তাবাংলা ডেস্ক :: বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের হরতাল সামনে রেখে রাজধানীতে ১৮টি যানবাহনে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। রাত সাড়ে আটটার দিকে হাতিরঝিল এলাকায় একটি চলন্ত প্রাইভেটকারে প্রেটোলভর্তি বোতল ছুড়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দিলে তাতে পুড়ে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন দুই তরুণ চিকিৎসক।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৫টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার তথ্য জানায়।

হিসেব অনুযায়ী, দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পল্টন, মালিবাগ, কাপ্তানবাজার, ফার্মগেট,কাকরাইল, কল্যাণপুর, খিলগাঁও, কারওয়ান বাজার, মিরপুর ১২, সদরঘাট, গুলিস্তান, বাড্ডা, মতিঝিল, পুরান ঢাকার চানখাঁনপুর ও নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আরও ১৬টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে সোমবার ও মঙ্গলবার হরতাল ডেকেছে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট। হরতালের আগের দিন দুপুর থেকেই দলটির কর্মীরা এই তাণ্ডব চালানো শুরু করে।

রাজধানীর মধ্যবাড্ডা এলাকায় বাসে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা।রোববার রাত সোয়া ৯টার দিকে মধ্যবাড্ডার ন্যাশনাল কলেজের সামনে ফাঁকা রাস্তায় বাসটিতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় হরতাল সমর্থকরা।

রাজধানীর হাতিরঝিলে হরতাল সমর্থকরা পেট্রোলভর্তি বোতল ছুড়ে  চলন্ত প্রাইভেটকারে আগুন ধরিয়ে দিলে দুই তরুণ চিকিৎসক মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। রোববার সাড়ে ৮টায় এ ঘটনার পর দুই চিকিৎসককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাত ৮টার দিকে বলধা গার্ডেনের সামনে একটি বাসে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা।

সন্ধ্যায় চানখাঁরপুলে গুলিস্তান থেকে ধামরাইগামী গ্রামীণ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা।

সন্ধ্যা ৭টায় মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা।

গুলিস্তান নগর ভবনের সামনে যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। বাসটির সম্পূর্ণ পুড়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে সদরঘাটে সুতাবাহী একটি পিকআপে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদরঘাটের গ্রেটওয়াল মার্কেটের বিপরীতে পিকআপ থেকে সুতা নামানোর সময় হরতাল সমর্থকরা আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুবকর সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে মেরুল বাড্ডায় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, তিনটি মোটরসাইকেলে চেপে ছয় যুবক বাসটিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলশান ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন বলে ওসি জানিয়েছেন।

সন্ধ্যা ৬টার কিছু আগে মিরপুর ১১নং সেকশনে মিরপুর থেকে আজিমপুরগামী সেফটি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা।

সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ দুদক প্রধান কার্যালয়ের পেছনের ফটকের কাছে একটি সিএনজি ক্যাবে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। এ সময় একজনকে আটক করে পুলিশ।

বিকেলে ৫টায় রাজধানীর কারওয়ানবাজারস্থ এটিএন বাংলা কার্যালয়ের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা।

বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের সামনে মিডলাইন পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,  হঠাৎ একদল হরতাল সমর্থনকারী  এসে বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তাড়াহুড়ো করে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে প্রাণ বাঁচান।

বিকেল ৪টায় রাজধানীর কল্যাণপুর খালেক পেট্রোল পাম্পের সামনে একটি যাত্রীবাসে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা।

বিকেলে সাড়ে ৩টায় কাকরাইল মসজিদের সামনে ৩-নম্বর রুটের একটি বাসে  আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। দুইজন হরতাল সমর্থক হোন্ডায় চেপে এসে বাসটিতে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।  এ সময় কাকরাইল মসজিদের মুসল্লিরা মসজিদ থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে দমকল বাহিনীর সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফকিরাপুল মোড়ে টায়ারে আগুন দিয়ে রাস্তা বন্ধ করার চেষ্টাকালে ৩ হরতাল সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাদের নাম প্রকাশ করা হয় নি।

ফার্মগেটে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে একটি যাত্রাবাহী বাসে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। এসময় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম ফার্মগেটে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, বাসটি ৬ নম্বর রুটের।

দুপুর দেড়টার দিকে মালিবাগ ও কাপ্তানবাজারে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। কাপ্তানবাজারে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ রুটের বাসটি দাঁড়িয়ে ছিল। দুর্বৃত্তরা হঠাৎই এতে আগুন দেয় বলে প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান। আর মালিবাগে যে বাসটি পোড়ানো হয় সেটি রাজধানীর অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী পরিবহন করছিল।

দুপুর ১টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। এসময় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৮ দলীয় জোট নেতারা বৈঠকে করছিলেন। এ ঘটনার জেরে নয়াপল্টনে টহল বাড়িয়ে দেয় পুলিশ। এসময় বিচলিত জোট নেতারা বিএনপি অফিস ছেড়ে তড়িঘড়ি  চলে যান।

বেলা পৌনে ১টার দিকে পল্টনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনের সামনে নিউ-ভিশন নামের একটি বাস ভাঙচুর করে তাতে আগুন লাগায় দুর্বৃত্তরা।বায়তুল মোকাররমের পাশের এক দোকানি জানান, বাসটি যাত্রী নিয়ে মতিঝিল থেকে মিরপুর যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে সেটির ওপরর হামলে পড়ে ভাঙচুর চালায়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী আহত হয়। এরপর তারা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বাসযাত্রী জিয়াউর রহমান জানান, বাসটি পল্টনে আসামাত্র হঠাৎই একদল দুর্বৃত্ত বাসটিতে ভাঙচুর শুরু করে দেয় এবং পরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। দায়িত্বরত সার্জেন্ট মশিউর রহমানও একই কথা জানান। দমকল বাহিনীর সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভান বলে জানান মশিউর।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »