বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ভারী বৃষ্টিতে আবার ডুবল চট্টগ্রাম নগর। জলাবদ্ধতার কারণে পানিতে ডুবে মারা গেছেন শীলাব্রত বড়ুয়া (৬২) নামের সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তা।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত একটার দিকে শীলাব্রত নগরের মোহাম্মদ আলী রোডের বড় নালায় পড়ে নিখোঁজ হন। আজ সোমবার সকালে বাকলিয়া থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

গতকাল রাত থেকে থেমে থেমেই চট্টগ্রামে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকা দফায় দফায় পানিতে ডুবে যায়। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে। ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।

পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের হিসাবে আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ৬৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি চলছিল। পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের কর্তব্যরত আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি চলছে। একই কারণে আগামী দুই-এক দিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া পাহাড়ধসের সতর্কবার্তাও রয়েছে।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব কুমার চৌধুরী জানান, বৃষ্টিতে রাতে নগরের মোহাম্মদ আলী সড়কের রয়েল গার্ডেন নামের একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে শীলাব্রত বড়ুয়া বড় নালায় পড়ে যান। এ সময় পানির স্রোত তাঁকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। শীলাব্রতের ছেলে শান্ত বড়ুয়া জানান, রয়েল গার্ডেনে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বাবা শীলাব্রত। রাত একটায় বিয়ে শেষ করে যখন বের হচ্ছিলেন, তখন প্রচণ্ড বৃষ্টি ছিল। এ সময় সড়কে পানি জমে যায়। তখন তিনি রয়েল গার্ডেনের সামনে দিয়ে যাওয়া বড় নালায় পড়ে যান।

শীলাব্রতের বাড়ি হাটহাজারীর মির্জাপুর এলাকায়। তিনি কাউখালী উপজেলার প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ছিলেন।

এদিকে বৃষ্টিতে নগরের ষোলোশহর, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, প্রবর্তক মোড়, ছোটপুল, সিডিএ আবাসিক এলাকা, চকবাজার, কাপাসগোলা, বাকলিয়া, হালিশহর, আগ্রাবাদ, আগ্রাবাদ এক্সেস সড়ক, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা সকাল থেকে ডুবে রয়েছে।

জিইসি থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল সকাল ১০টা থেকে বন্ধ হয়ে যায়। আগ্রাবাদ এক্সেস সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয় সকাল আটটা থেকে। এ ছাড়া প্রবর্তক মোড় বহদ্দারহাট মোড় ও চান্দগাঁও এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। নগরের ষোলোশহর মোড়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসা একটি বাস আটকা পড়ে। বাসের চালক আনোয়ার হোসেন আজ দুপুর ১২টায় বলেন, ‘সকাল সাতটায় এই মোড়ে আটকা পড়েছি। জিইসি থেকে এদিকে এসে এক কিলোমিটার এলাকায় যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এসপি অফিসের সামনে পানির কারণে আর যেতে পারিনি। মুরাদপুর দিয়েও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় পড়ে।’

যানবাহনস্বল্পতা এবং জলাবদ্ধতার কারণে পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। ষোলোশহর এসপি কার্যালয়ের সামনে কোমরসমান পানি ডিঙিয়ে মানুষ পার হচ্ছিলেন ভ্যানে চড়ে। প্রতিজনের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

মো. আবদুল্লাহ নামের এক ভ্যানচালক বলেন, ‘সকাল থেকে দুজনে মিলে হাজার খানেক টাকা ভাড়া মেরেছি।’

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »