দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় তীব্র যানজট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা থেকে রাজারহাট পর্যন্ত চার কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শাহ আলম, সহকারী শিক্ষক মেরিনা খানম বলেন, ঢাকায় যাওয়ার জন্য সকাল আটটায় দাউদকান্দির গৌরীপুর থেকে এশিয়া লাইনের যাত্রীবাহী বাসে উঠি। রাজারহাট থেকে যানজটে আটকা পড়ে দুপুর ১২টায় গজারিয়ার ভাটেরচর এলাকায় পৌঁছেছি। পুরো রাস্তায় যানজট। অর্থাৎ ২০ মিনিটের পথ পার হতে চার ঘণ্টা সময় লেগেছে। কত ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছাব তা বলতে পারছি না। তাঁদের অভিযোগ, অতিরিক্ত মালবাহী যানবাহন চলাচল এবং মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল টোলপ্লাজা এলাকায় অব্যবস্থাপনার কারণে গত শনিবার থেকে মহাসড়কে এই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে আমাদের কষ্ট হচ্ছে।

ঢাকা থেকে হোমনাগামী বাসের যাত্রী দাউদকান্দির মালিগাঁও গ্রামের ফেরদৌসী আক্তার, চশই গ্রামের আলী আর্শাদ, নয়াচর গ্রামের কামাল হোসেন ব্যাপারী, মতলব উত্তরের মধ্য ইসলামাদ গ্রামের আনোয়ারা বেগম, মাহমুদা, আহমেদ উল্লাহ ও হোমনার জয়নগর গ্রামের মো. ইসলাম বলেন, সাহরি খাওয়া ও ফজরের নামাজ আদায় করার পর ভোর সাড়ে চারটায় তাঁরা ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে বাসে ওঠেন। বেলা ১১টায় গৌরীপুরে পৌঁছান। অথচ ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পৌঁছানোর কথা ছিল। মৌচাক, কাচপুর কেওঢালা, মোগড়াপাড়া, মেঘনা সেতু এলাকা, বালুয়াকান্দি, ভাটেরচর, ভবেরচর ও বাউশিয়া পর্যন্ত তীব্র যানজট।

এশিয়া লাইন বাসের চালক মো. জসিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, দালালকে অতিরিক্ত টাকা না দিলে মেঘনা সেতুর চট্টগ্রামগামী যানবাহনের টোলপ্লাজায় মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চালকেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। টাকা না দিলে ওজন বেশি বলে বেশি টোল আদায় করা হচ্ছে। ফলে প্রবেশপথে তর্কবিতর্কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা অনলাইন ওয়েব বেইজড এক্সেল লোড ওয়েরিং স্কেল এবং টোল আদায়ের ধীর গতির কারণে এই যানজট।