বার্তাবাংলা ডেস্ক »

bangabandhu sheikh mujibor rahmanবার্তাবাংলা ডেস্ক :: তির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৩তম জন্মদিন আজ রোববার। দিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা। একটি মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশ সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দেয়া আবার সদ্য স্বাধীন সেই দেশ গঠনেও সমান ভূমিকা রাখা-এ রকম সৌভাগ্য ইতিহাসে খুব কম জাতীয়তাবাদী নেতার বেলায় ঘটেছে।

গোপালগঞ্জের নিভৃত গ্রাম টুঙ্গিপাড়া। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সেই গ্রামের পাঠশালা পেরিয়ে ১৯৩৯ সালে স্থানীয় মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে হাতেখড়ি।

এরপর কোলকাতার ইসলামিয়া কলেজে লেখাপড়া করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। আর ১৯৪৮ সালেই ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়ে তাকে কারান্তরালে যেতে হয়।

সেই থেকে বারবার পাকিস্তানি সামরিক সরকারের টার্গেটে পরিণত হন শেখ মুজিব। ৫২,৫৪,৫৬,৫৮ সালের দিনগুলোতে রাজনীতিতে ছিল তার দৃপ্ত পদচারণা। ছাত্রনেতা থেকে আওয়ামী লীগের কাণ্ডারী হয়ে ওঠেন। আন্দোলন-সংগ্রামের বন্ধুর পথ পাড়ি দেন।

৬২-৬৪ পেরিয়ে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা প্রস্তাব করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন বঙ্গবন্ধু। ৬ দফা হয়ে যায় বাঙালির মুক্তিসনদ। ৬৮-তে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে দমানোর চেষ্টা চলে।

তাতেই ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। আর ৭০ এর নির্বাচনে জয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ইয়াহিয়া টালবাহানা শুরু করলে স্বাধীনতা সংগ্রাম অনিবার্য হয়ে পড়ে।

এরপর আসে ৭১-এর ৭ই মার্চ। রেসকোর্সে লাখো মানুষের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেন। বাঙালিকে সশস্ত্র লড়াইয়ে প্রস্তুত করেন।

২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র মানুষের ওপর পাকিস্তানি বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। বর্বর গণহত্যা চালায় তারা। আর দেরি করেননি বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি, শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

সেই রাতের মধ্যেই পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। একাত্তরের ৯ মাস তার নামেই স্বাধীনতার যুদ্ধ চালিয়ে যায় পুরো জাতি। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় আসে।

৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরেন। বাংলার অবিসংবাদিত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজে নেতা নেমে পড়েন।

কিন্তু ঘাতকরা পিছু ছাড়েনি তার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে কতিপয় কুচক্রী রাজনীতিকের সহযোগিতায় কিছু সেনাঅফিসার নির্মমভাবে হত্যা করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি ও তার পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে।

যার নামের সঙ্গে একাকার বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশ, তার অনুরণন প্রতি নিঃশ্বাসে। যতদিন এ দেশ, যতদিন এই লাল-সবুজের পতাকা, ততদিন ধ্রুবতারা হয়ে থাকবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »