ইতিহাস গড়লেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ

ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর দৃষ্টিতে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর জুটিটি তরুণদের জন্য দারুণ শিক্ষণীয়। ম্যাচ চলার সময় টেলিভিশনে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী। সাকিব-মাহমুদউল্লাহর এই জুটিতে মুগ্ধ সৌরভ বলেই বসলেন, ‘এই জুটির ফুটেজ বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য অবশ্যই দেখার এক বিষয়। চাপের মধ্যে কীভাবে জুটি গড়তে হয় সাকিব-মাহমুদউল্লাহ দারুণভাবেই তা দেখিয়েছেন। তরুণদের জন্য যা দারুণ শিক্ষণীয়।’
৩৩ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর সাকিব আর মাহমুদউল্লাহ যে আহামরি কিছু করে বসবেন সেটা ভাবার সাহস করেননি অনেকেই। এর কারণ, এই যুগলের ব্যাটিং-রেকর্ড। তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ—বাংলাদেশ দলের শীর্ষ চার ব্যাটসম্যানের মধ্যে সাকিব আর মাহমুদউল্লাহর মধ্যেই খুব বেশি বড় জুটি নেই। অথচ, গতকাল কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের সামান্যতম সম্ভাবনা জাগাতেও সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর মধ্যে বড় একটা জুটির দরকার ছিল। পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর মধ্য কমপক্ষে একশ রানের জুটিই মাত্র দুটি। এর সর্বশেষটি এসেছে ৬ বছর আগে অর্থাৎ, ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইতিহাসই গড়লেন এই দুই ব্যাটসম্যান। যেকোনো উইকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড গড়লেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে গড়লেন পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনকেও যেন নিজেদের করে নিলেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশের দারুণ পয়া এই মাঠে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডটাও এখন তাদেরই।
এমন দুর্দান্ত এই জুটি কীভাবে গড়েছেন এই সাকিব-মাহমুদউল্লাহ। ম্যাচ শেষেই স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহমুদউল্লাহ বলেছিলেন, উইকেটে তাঁরা দুজন খুব বেশি কথা-বার্তা বলেননি। সাকিব বলেছেন, লক্ষ্য-জয়-পরাজয় এসব কিছুই মাথায় রাখেননি তারা। কেবল খেলে গেছেন।

সাকিব খুব ভুল বলেননি। ব্যাটিংয়ের একেবারে মৌলিক দিকগুলো নিয়েই কিন্তু গড়া মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে তাঁর এই ঐতিহাসিক যুগলবন্দী। এতে পাল্টা আক্রমণ ছিল। ছিল আগ্রাসনও। কিন্তু ব্যাটিংয়ের মৌলিক বিষয় থেকে কখনোই সরে আসেননি তাঁরা। ২২৪ রানের এই জুটির ১০১ রানই তাঁরা নিয়েছেন দৌড়ে—৮৩টি সিঙ্গেলস, ১৮টি ডাবলস। সাকিবের সিঙ্গেলস-সংখ্যা ৪৩টি, মাহমুদউল্লাহর ৪০টি। দুজনই দুই রান নিয়েছেন নয়বার করে।
জুটিতে মোট বাউন্ডারির সংখ্যা ২১টি। চার ১৮টি, ছক্কা ৩টি। এর মধ্য সাকিব মেরেছেন ১১টি চার ও একটি ছক্কা। মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে এসেছে ৭টি চার ও ২টি ছক্কা।
তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য শিক্ষণীয় এই জুটি দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বহু বছর ধরেই।