উড়ছিল ভারত। প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডকে ধসিয়ে দিয়ে, চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় উঠে গিয়েছিল বিরাট কোহলির দল। সে চূড়া থেকে তাদের টেনে নামাল শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ ‘বি’র মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে লঙ্কানরা। শিখর ধাওয়ানের সেঞ্চুরিতে ভারত ৩২১ রান করার পর ম্যাচের এ ফল কারও ভাবনায় আসেনি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভারতীয় পেসাররাই এর কারণ। শ্রীলঙ্কা ইনিংসের পঞ্চম ওভারেও সেটা সঠিক মনে হচ্ছিল। ভুবনেশ্বর কুমারের বলে নিরোশান ডিকভেলা যখন ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন। মাত্র ১১ রানে প্রথম উইকেট হারানো লঙ্কানরা কত রানে হারবে সে হিসাব নিকাশ করা হচ্ছিল তখন।
সব বদলে দিলেন দানুশকা গুনাথিলাকা ও কুশল মেন্ডিস। ঠান্ডা মাথায় খেলেও কীভাবে দ্রুত রান নেওয়া যায় সেটা দেখিয়ে দিয়েছেন এ দুজন। মাত্র ২৩.১ ওভারেই ১৫৯ রান যোগ করেছেন এ দুজন। দারুণ সব শটে ভারতীয় বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছেন দুজন। ঝড়টা সবচেয়ে বেশি গেছে রবীন্দ্র জাদেজার ওপর দিয়ে। ৬ ওভারে ৫২ রান দেওয়ার পর তাঁকে আর বোলিংয়ে আনার সাহস পাননি কোহলি। নিজেই বল হাতে নিলেন কোহলি। ভাগ্যও মুখ ফিরে তাকাল ভারতের দিকে!
গুনাথিলাকা ও মেন্ডিসের আউট দুটির বর্ণনা এক বাক্যে দেওয়া যায়, ‘মরিবার হলো তার সাধ!’ ১৭০ রানে প্রথমে রান আউট হলেন গুনাথিলাকা (৭২ বলে ৭৬ রান)। ২৬ রান পরে তাঁর পথে হাঁটলেন মেন্ডিসও (৮৯)। কিন্তু এরপরও ম্যাচে ফিরতে পারেনি ভারত। কুশল পেরেরা, অ্যাঞ্জেলা ম্যাথুস ও আসেলা গুনারত্নে সে সুযোগই দেননি। জয় থেকে ৫১ রান দূরে পেরেরা (৪৭) আহত হয়ে মাঠ ছাড়লেও অসুবিধা হয়নি শ্রীলঙ্কার। অনেক দিন পর দলে ফিরে অধিনায়ক ম্যাথুস তো ছিলেন। দুর্দান্ত এক ফিফটিতে ৮ বল বাকি থাকতেই দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন ম্যাথুস।