আলেপ্পোর সেই ছেলেটি এখন

রক্তাক্ত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সের চেয়ারে বসে থাকা সিরিয়ার ছোট্ট শিশু ওমরান দাকনিশের নতুন একটি ছবি প্রকাশ পেয়েছে। সিরিয়ার আলেপ্পোয় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছিল বিমান থেকে বোমাবর্ষণের পর অ্যাম্বুলেন্সে বসে থাকা রক্তাক্ত ওমরানের ছবিটি; যা পুরো বিশ্বকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিল।

গত বছর অগাস্টে আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ওমরানদের বাড়িতে বোমা বর্ষণ করা হয়।

রোববার ওমরানের নতুন একটি ছবি আনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে শিশু ওমরানকে তার বাবা ও বোনের সঙ্গে পুর্ব আলেপ্পোতে তাদের নতুন বাড়িতে দেখা যাচ্ছে। পূর্ব আলেপ্পো এখন পুরোপুরি সরকারে নিয়ন্ত্রণে।

খালেদ ইসকাফ নামে ইরানের এক সাংবাদিক ওই ছবিটি তোলেন।

আসাদপন্থি সাংবাদিক খালেদকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওমরানের বাবা অভিযোগ করে বলেন, সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালাতে তার ছেলের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

মোহাম্মদ দাকনিশ বলেন, “সিরিয়ার বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে আক্রমণ করতে ওমরানের ছবি ব্যবহার করতে চেয়েছে।”

“তারা আমার ছেলের রক্ত নিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে, এজন্য তারা ওমরানের ছবি প্রকাশ করেছে।”

এ ধরনের আরও কন্টেন্ট

গত বছর ১৭ অগাস্ট ‍তাদের বাড়িতে বোমা বর্ষণের পর তিনি পাঁচ বছরের ওমরানের সঙ্গেই বসে ছিলেন এবং হামলার আগে আকাশে কোনো বিমান উড়ে যাওয়ার শব্দ পাননি বলে দাবি করেন মোহাম্মদ দানকিশ।

তিনি আরও বলেন, ওমরান ওইদিন সামান্য চোট পেয়েছিল এবং তার শরীরের একটি আঘাত থেকেই ওইদিন তার ছেলের মুখমণ্ডলে রক্ত পড়েছিল।

“আমি ধ্বংস্তুপের মধ্যে আমার বাকি সন্তানদের খুঁজছিলাম। ওই সময় বন্দুকধারীরা ওমরানকে নিয়ে যায় এবং একটি অ্যাম্বুলেন্সে বসিয়ে তার ছবি তোলা শুরু করে। এরপর তারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। যদিও তার কোনো প্রয়োজন ছিল না।”

ওমরানের বাবা এমনটা দাবি করলেও আলেপ্পো মেডিকেল সেন্টার (এএমসি) থেকে প্রকাশ করা ভিডিও ফুটেজ সে কথা বলছে না।

ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, এক ব্যক্তি ওমরানকে একটি ভবনের ধ্বংসস্তুপ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসছে, তার হাতে কোনো অস্ত্র নেই। ওই ব্যক্তি একজন উদ্ধারকর্মী ছিলেন বলেই মনে করা হয়, যিনি ওমরানকে একটি অ্যাম্বুলেন্সের চেয়ারে বসিয়ে দেন।

ওমরানকে যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেখানকার একজন চিকিৎসক ওই সময় বিবিসিকে বলেছিলেন, ওমরান মাথায় চোট পেয়েছে এবং সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়ও সে প্রচণ্ড আতঙ্কে ভুগছে।

গত বছরের শেষ দিকে আসাদ বাহিনী আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলের দখল নিলে ওমরানের বাবা পরিবার নিয়ে সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বাস করার সিদ্ধান্ত নেন।

এ ধরনের আরও কন্টেন্ট