নিরাপত্তা জোরদারে জিমেইলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

সাইবার হামলা ঠেকাতে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে জিমেইল। গত বুধবার এক ঘোষণায় এ কথা জানিয়েছে গুগল। প্রতিটি জিমেইল ইনবক্সের প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশই স্প্যাম মেইল বলে ধারণা গুগলের। এমন স্প্যাম ই-মেইলগুলো ব্যবহারকারীর সঙ্গে প্রতারণা করতেই লোভনীয়ভাবে সাজানো হয়। তাই জিমেইল তাদের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং দক্ষ কর্মীরাও যে ভুল করেন, তা এড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর কথা জানায়।

হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাঁর জিমেইলে হওয়া ফিশিং হামলার কথা উল্লেখ করে জিমেইল কর্তৃপক্ষ জানায়, অনেকটা জিমেইলের মতো ফিশিং সাইট বানিয়ে হিলারিকে তাঁর পাসওয়ার্ড বদলাতে উৎসাহী করা হয়। এমন ফিশিং হামলার শিকার প্রতিদিনই অনেক ব্যবহারকারী হয়ে থাকছেন। কিন্তু এত বিশাল জিমেইল ব্যবহারকারী জনগোষ্ঠীকে ফিশিং সাইটগুলোর প্রতারণা থেকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়া সুদক্ষ কর্মীর পক্ষেও পুরোপুরি সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই ফিশিং সাইট ঠেকাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেশিন লার্নিং পদ্ধতি ব্যবহার করবে জিমেইল। এই পদ্ধতিতে ইনবক্সে আসা সন্দেহজনক কোনো মেইল চিহ্নিত করা যাবে। ইনবক্সে জমা হওয়ার আগেই জিমেইল সেই ইমেইলকে খতিয়ে দেখবে, সেটিতে কোনো ফিশিং লিংক রয়েছে কি না।
নতুন এই পদ্ধতি নিয়ে জিমেইলের পণ্য ব্যবস্থাপক অ্যান্ডি ওয়েন বলেন, নতুন এই নিরাপত্তার মাধ্যমে জিমেইলের কার্যক্ষমতা আগের ম্যানুয়াল পদ্ধতির চেয়ে দ্রুতগতির হবে।
এ ছাড়া কোনো অনিরাপদ লিংকে প্রবেশের আগেই ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে জিমেইলের নিরাপদ ব্রাউজিং সুবিধা। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের জিমেইলের ক্ষেত্রে নতুন সতর্কীকরণ পদ্ধতি চালু করছে জিমেইল। ইমেইল ফিশিং প্রতিরোধী সংস্থা ‘আইরনস্কেল’ জানিয়েছে, ফিশিং হামলার শিকার হওয়া তিনটি বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জিমেইল শীর্ষে। শুধু গত বছরেই সাড়ে আট হাজারেরও বেশি ফিশিং হামলার শিকার হয় জিমেইল। এ ছাড়া জিমেইলের বর্তমান পদ্ধতিতেও স্প্যাম বক্সে ২০টির মধ্যে ৫টি ফিশিং মেইল জমা হয়। তাই জিমেইলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।
শাওন খান, সূত্র: সিনেট