বার্তাবাংলা ডেস্ক »

2) Gopalpurএ কিউ রাসেল, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) থেকে : উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের কাহেতা গ্রামের ১১৩ জন কিশোর-তরুণ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি এবং জামাত- শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে মাথা ন্যাড়া করে প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। তাদের এ ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ কর্মসূচি পুরো উপজেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। উপজেলা গণজাগরণ মঞ্চ পরিচালনা পর্ষদ তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যমুনার কোলজুড়ে গড়ে ওঠা এ গ্রামটি একাত্তরে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অভয়ারণ্য। গ্রামের অনেকেই সক্রিয়ভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। তবে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মহল দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্ষমতায় থাকায় এ গ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ম্লাান হয়ে যায়। গ্রামের তরুণরা স্বাধীনতার ৪ দশক পর আবার নতুন করে ভিন্নধর্মী প্রতিবাদের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন। তরুণ প্রজন্মের ৪ নায়ক এবার আলোচনার শীর্ষে অবস্থান করছেন। এরা হলেন- রবিন, মিজান, সোহেল ও ইমরান। এরা সবাই স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া। নতুন প্রজন্মের টগবগে এ তরুণরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। তবে ফেইসবুক, টুইটার, ম্যাসেজ, অনলাইন লাইব্রেরি এবং সংবাদপত্র পড়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছে।

ঢাকার শাহবাগ চত্বরে শুরু হওয়া গণজাগরণ মঞ্চ তাদেরকে পথের দিশা দেখিয়েছে। জাতীয় প্রজন্ম চত্বর নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও চেতনার সঙ্গে তাদের পরিচয় ঘটিয়েছে। এ প্রত্যক্ষ সুযোগ তাদের অপরিসীম প্রেরণা জুগিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া ত্রিশ লাখ মানুষের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে এবং স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার-আলবদরের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশে সাহস দিয়েছে।

এ অদম্য ৪ তরুণ শাহবাগ মঞ্চ থেকে সংগ্রহ করা চেতনার আলোকবর্তিকা প্রথমে সারা গ্রামে ছড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তারা গ্রামের সব যুবক ও তরুণকে একাত্তরের সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি এবং জামাত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ করেন। শুরু হয় তাদের ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে স্থানীয় কাহেতা হাইস্কুল মাঠে ১১৩ জন কিশোর-তরুণ একত্রিত হয়ে সবাই একযোগে মাথা ন্যাড়া করে। পরে কয়েকশ ন্যাড়া তরুণ ও যুবক রাজাকারের ফাঁসি এবং জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে গ্রামের হাইওয়ে ধরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে কাহেতা স্কুল মাঠের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশ করেন। সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আলোকিত গোপালপুরের স্বপ্নদ্রষ্টা মোঃ ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠা-ু। এ সময় তিনি তরুণদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

তরুণদের নেতা এবং সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রবিন জানান, যতোদিন জেলহাজতে আটক সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি এবং জামাত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধ না হবে ততোদিন গ্রামের তরুণ ও যুবকরা মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।

তরুণদের আরেক নেতা এবং হেমনগর কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্র মিজান জানান, মাথা ন্যাড়া করা তরুণরা কোনো রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নয়। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সারা দেশের তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে। এ তরুণের মিছিলে সমবেত হওয়াই তাদের লক্ষ্য।

সা’দত কলেজের বাংলা বিভাগের অনার্স প্রথমবর্ষের ছাত্র এবং ন্যাড়া আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সোহেল জানান, শাহবাগ চত্বরের পাশাপাশি গ্রামগঞ্জের তরুণদেরকেও আজ জেগে উঠতে হবে। শুধুমাত্র শহুরে তরুণদের পক্ষে একা রাজাকারবিরোধী লড়াই দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে আজ জাতীয় ঐক্যের এ ডাকে সাড়া দিতে হবে। উপজেলা গণজাগরণ মঞ্চ পরিচালনা পর্ষদ তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে বলে এর সদস্য সচিব হাজী শামছুল হক মাস্টার সূত্রে জানা গেছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »