ভারতে গরুর জন্য অ্যাম্বুলেন্স!

গরুর জন্য অ্যাম্বুলেন্স-সেবা চালু করেছে উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকার। গত সোমবার রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য এই সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

কেশব প্রসাদ যেদিন গরুর জন্য এই সেবা উদ্বোধন করেন, সেদিনই ওই রাজ্যে মর্মান্তিক এক ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে মারা যায় দরিদ্র বাবার এক ছেলে। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও কর্তৃপক্ষ ছেলের লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা করে দেয়নি। অগত্যা ১৫ বছর বয়সী ছেলের লাশ কাঁধে নিয়েই সাত কিলোমিটার দূরের বাড়ির পথে পা বাড়ান অসহায় বাবা।

ভারতের এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌয়ে গরুর জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের উদ্বোধন করেন কেশব প্রসাদ মৌর্য। ‘গোবংশ চিকিৎসা মোবাইল ভ্যান’ নামের এ প্রকল্পটি আপাতত লক্ষ্ণৌ, গোরখপুর, বরানসি, মথুরা ও এলাহাবাদে চালু হলেও তা ধীরে ধীরে পুরো রাজ্যে চালু হয়ে যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই অ্যাম্বুলেন্সে অসুস্থ গরুর অস্ত্রোপচারের সব ব্যবস্থাই থাকবে। এমএনআরইজিএ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এটা পরিচালনা করবে। গোবংশ রক্ষা ট্রাস্ট জানিয়েছে, এটি একটি অলাভজনক প্রকল্প। কোনো অসুস্থ গরুকে চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট গোশালায় নিয়ে যেতে এ অ্যাম্বুলেন্স-সেবা ব্যবহৃত হবে।

এই প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবক ও পশু চিকিৎসক ভরত যাদব বলেন, বর্তমানে পাঁচজনের একটি দল এ কাজটি করবে। রাস্তার ট্রাফিক সিগন্যাল ও রাস্তা ফাঁকা করে দিতে অ্যাম্বুলেন্সে সাইরেনও লাগানো হয়েছে।

স্থানীয় গরুর মালিক রাম দিন এ অ্যাম্বুলেন্স-সেবা পেয়েছেন। তাঁর গরুর বাছুর অসুস্থ ছিল। এ কারণে তিনি তাঁদের ডেকেছিলেন। রাম দিন বলেন, ‘আমি জানি না, বাছুরটি সুস্থ হবে কি না। তবে, এটা ভালো লাগছে যে বাছুরের অসুস্থতার খবর জানাতেই তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ছুটে এসেছেন। এটা খুবই ভালো সার্ভিস।’ এমএনআরইজিএর প্রেসিডেন্ট সঞ্জয় রায় বলেন, ‘রাজ্যের ৭৫টি জেলাতেই আমরা এ ধরনের অ্যাম্বুলেন্স-সেবা দিতে চাই। তবে এটা নির্ভর করছে, আমরা কী পরিমাণ অর্থ সাহায্য পাচ্ছি তার ওপর। আমাদের লক্ষ্য অনেক দূর পর্যন্ত। আমি শুধু বলতে চাই, এই সেবার সঙ্গে কোনোভাবেই রাজনৈতিক ব্যাপার জড়িত নেই। তবে হ্যাঁ, এই সেবার পেছনে আমাদের মূল উৎসাহদাতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।’

এ প্রকল্পে সরকারি খরচের বিষয়টি অস্বীকার করে সঞ্জয় রায় আরও বলেন, ‘সরকার আমাদের অর্থ-সহায়তা দেয়নি। তবে তারা শুধু সমর্থন করেছে। যারা গরুকে পবিত্র মনে করেন, তাদের কাছ থেকেই অতীতে ও বর্তমানে অর্থ-সহায়তা আসছে। আমি নিশ্চিত, এ ক্ষেত্রে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।’

সঞ্জয় রায় বলেন, লক্ষ্ণৌয়ে এ প্রকল্পের কার্যালয়ে ৩২ জন স্বেচ্ছাসেবক আছেন। অ্যাম্বুলেন্স-সেবা চেয়ে অফিসে দিনে শতাধিক কল আসছে।