কুড়িয়ে পাওয়া সাত কেজি সোনা ফেরত দিলেন দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী

বিমানের ভেতরটা পরিষ্কার করছিলেন দুজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। হঠাৎ একটি আসনের নিচে একটি প্যাকেট নজরে আসে তাঁদের। দুজনে মিলে প্যাকেটটি বের করে নিয়ে আসেন। প্যাকেটটি স্পর্শ না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান তাঁরা। পরে তা উদ্ধার করে সবার সামনে প্যাকেট খোলা হয়। এর ভেতরে ছিল ৬০টি সোনার বার, যার দাম সাড়ে তিন কোটি টাকা!

দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইচ্ছে করলেই প্যাকেটটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা না দিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন। তবে তাঁরা তা করেননি!

ওই ঘটনা ঘটেছে গত ১ মে বাংলাদেশে! হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের একটি বিমানে। ওই দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসে কাজ করেন।

দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী হচ্ছেন  আবদুল কাদের  (২৯) ও আলমাস হোসাইন (৩৮)।

আজ বুধবার কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর উভয়কে পুরস্কৃত করে। উভয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি ক্রেস্ট ও একটি প্রশংসাপত্র। অধিদপ্তরের যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এসব তথ্য দেওয়া হয়।

ফেসবুকে বলা হয়, চোরাচালান প্রতিরোধে তাঁদের এই সততার স্বীকৃতিস্বরূপ আজ শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই সম্মাননার মধ্যে রয়েছে একটি ক্রেস্ট ও একটি প্রশংসাপত্র।

শুল্ক গোয়েন্দার সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তাঁদের এই সম্মাননা দেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান ও ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।

গত ১  মে দুপুর ২টার দিকে ইউ এস বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি (ফ্লাইট নং বিএস ২০২) ভারতের কলকাতা থেকে ঢাকায় আসে। এর আগে তা সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আসে।

অবতরণের পরে ওই বিমানটি বিমানবন্দরের ৮নং বে তে পার্কিং অবস্থায় ছিল। ফ্লাইটের সব যাত্রী নেমে যাওয়ার পর বে এরিয়াতে বিমানটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিষ্কার করার কাজের সময় ওই বিমানের ‘১বি’ আসনের নিচে ওই প্যাকেটটি দেখতে পান কাদের ও আলমাস। উভয়ে ওই প্যাকেট স্পর্শ না করে বিষয়টি তৎক্ষণাৎ ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পরামর্শ অনুযায়ী বিষয়টি শাহজালাল বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানান এবং বিমানের ভেতরে পাওয়া প্যাকেট তাঁদের কাছে হস্তান্তর করেন।

পরে ওই প্যাকেট খুলে পাওয়া যায়, ৬০টি সোনার বার। এগুলোর মোট ওজন প্রায় সাত কেজি। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, এসব সোনার বাজার মূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকা।

ফেসবুকে গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ‘অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, তাঁদের ব্যক্তিগত সততা ও দায়বদ্ধতা থেকে তাঁরা এই সোনাগুলো রাষ্ট্রের হেফাজতে জমা দেন। নিম্ন বেতনভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও সততার এই বিরল দৃষ্টান্ত অন্যদের জন্য অনুসরণীয়।’ ওই প্রতিষ্ঠান আরো লিখেছে, ‘এয়ারক্রাফটের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত সোনা নিজ উদ্যোগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর অথবা সংবাদ প্রদান একটি বিরল ঘটনা। এটি বিমানবন্দরে কর্মরত সকল এজেন্সির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক নজির স্থাপন করবে মর্মে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিশ্বাস করে।’

মিলল শুধু সনদ আর ক্রেস্ট

সাড়ে তিন কোটি টাকার সোনা ছিল ওই প্যাকেটে। তবে কাদের ও আলমাস যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। সততায় খুশি হয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর উভয়কে একটি ক্রেস্ট ও একটি প্রশংসাপত্র দেয়। তবে কোনো আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়নি তাঁদের।