বাসার ফ্লোর ঘামছে?

আজ হঠাৎ অনেকেই ঘুম থেকে উঠে লক্ষ্য করেছেন তার বাসার ফ্লোর ঘামছে! এমন নয় যে, শুধু নিচ তলার ফ্লোরের এ অবস্থা। পাঁচ তলা হোক কিংবা নিচ তলা- ফ্লোর ঘামছে। আবার দেয়ালের ক্ষেত্রেও অনেকের বাসার একই অবস্থা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকে এ প্রসঙ্গে পোস্ট দিয়েছেন। জানতে চেয়েছেন এর কারণ। এতে একটু হলেও মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

কেউ কেউ একে ভূমিকম্পের আগাম লক্ষণ মনে করছেন। কিন্তু এমন ভাবনার কোনো ভিত্তি নেই। চলুন জেনে নেই এর সম্ভাব্য কারণ কী হতে পারে। বাতাসের আদ্রতা বেড়ে যাবার কারণেই মূলত মেঝে ঘেমে যায়। বৃষ্টির কারণে বাতাসের আদ্রতা বেড়ে গেলে অনেক সময় এ ধরনের পরিস্থিতি হতে পারে। আবার কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হলেও এটি হতে পারে। গত কয়েক দিন টানা বৃষ্টি হয়েছে। আজ একটু রোদ উঠেছে, গত দিনের তুলনায় গরমও বেড়েছে। তাই বলা যায়, এর কারণ আর্দ্রতা ছাড়া অন্য কিছু নয়।

এ ধরনের আরও কন্টেন্ট

বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি হলে বাষ্প দেয়ালে মেঝেতে বস্তুতে লেগে ঘামের মতো মনে হয়। গ্লাসে বরফ রাখলে দেখবেন গ্লাসের বাহিরে গায়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানেও বিন্দু বিন্দু পানি জমতে থাকে। এছাড়া অন্য কারণ নেই। একেক বস্তুতে একেক গতিতে আর্দ্রতা থেকে বাষ্প জমে। কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ তখন বেড়ে যায়। অনেক সময় গোসল করার পর দেখা যায়, বাথরুমের আয়না ঘোলাটে হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিও জলীয় বাষ্পের কারণে হয়।

পৃথিবী উত্তপ্ত থাকে, আর বৃষ্টি হলে সেই পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। বাষ্পটাই মেঘ হয়। কিন্তু যখন বেশি বৃষ্টি হয় তখন বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে। যা ঠাণ্ডা কিছুর সংস্পর্শে এলে পানি হয়ে যায়। সম্প্রতি ভারতের আসামে ও মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাংলাদেশেরও বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আবার বাতাসের তাপমাত্রাও অনেক বেশি। ফলে সে এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে আর্দ্রতা অনেক বেশি। উত্তরে পানির চাপ অনেক বেশি থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখানে অন্য কিছু ভেবে ভয়ের কারণ নেই। বাড়ির দরজা-জানালা খোলা রাখুন। বাইরে থেকে রোদ আসতে দিন। ফ্যানের সুইচ অন রাখুন। দেখবেন ঠিক হয়ে যাবে।

এ ধরনের আরও কন্টেন্ট