ঢাকা ট্যানারি মোড়ে মহাসমাবেশ

২০০৩ সালের সম্পাদিত স্মারক অনুযায়ী শিল্পনগরীর প্লটের মালিকানা দলিল দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করাসহ মোট নয়টি দাবি উত্থাপন করেছে চামড়া শিল্প রক্ষা ঐক্য পরিষদ।

গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর চামড়া খাতসংশ্লিষ্ট সব সংগঠন আজ সোমবার রাজধানীর হাজারীবাগে ঢাকা ট্যানারি মোড়ে মহাসমাবেশ করে। এতে এই দাবি তুলে ধরে চামড়া শিল্প রক্ষা ঐক্য পরিষদ।

অন্য দাবিগুলো হলো শিল্পনগরীতে আন্তর্জাতিক মানের সিইটিপি, ক্রোম রিকভারি ইউনিট ও ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ নিশ্চিত করা, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে শিল্পনগরীতে গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ প্রদান, শ্রমিকদের আবাসন, সেক্টরসংশ্লিষ্ট সংগঠনসমূহের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বরাদ্দসহ প্লট না পাওয়া উদ্যোক্তাগণকে প্লট প্রদান, কারখানা বন্ধ থাকার সময়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য মালিকদের সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন অর্থ বরাদ্দ, কারখানা উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় যেসব রপ্তানি আদেশ বাতিল হবে এবং ক্রেতাগণ ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন সেই অর্থ সরকারকে পরিশোধ করতে হবে, বিসিকের অব্যবস্থাপনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত, শিল্পোদ্যোক্তাদের বিদ্যমান ঋণ ব্লক করতে হবে এবং সুদ মওকুফ, হাজারীবাগের জমিতে ডিজাইন প্ল্যান পাশের ওপর রাজউক কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

মহাসমাবেশে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়াকে চামড়াশিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, সাভারের চামড়াশিল্প নগরী এখনো প্রস্তুত নয়। আদালতকে ভুল বোঝানো হয়েছে। ওই স্থান প্রস্তুত হওয়ার আগেই ভুল তথ্য দিয়ে সব সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

বক্তারা বলেন, হাজারীবাগের ট্যানারি ভবনগুলোতে যেসব শ্রমিক বসবাস করেন, তাঁদের ঘরে এখন পানি নেই। গ্যাস নেই। তাই রান্না হচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় এই গরমে তাঁদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

সমাবেশে পরবর্তী কর্মসূচি তুলে ধরেন চামড়া শিল্প রক্ষা ঐক্য পরিষদ। আগামী বুধবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা ট্যানারি মোড় থেকে হাজারীবাগে কালো পতাকাসহ মৌন মিছিল করা হবে। এরপর আগামী শনিবার (১৫ এপ্রিল) চামড়া সেক্টরসংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ১৫ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না হলে বিসিক অফিস ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছে তারা।

চামড়া শিল্প রক্ষা ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আজকের মহাসমাবেশে অংশ নেন ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, লেদার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড লেদার গুডস ম্যানুফ্যাকচারিং কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলোজি সোসাইটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইমপোর্টার্স অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ চামড়া রপ্তানিকারক সমিতি, স্পিলিট চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি, বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, সমাজতান্ত্রিক চামড়া শিল্প শ্রমিক জোট, বাংলাদেশ লেদার সিলেক্টর অ্যাসোসিয়েশন, হাজারীবাগ ঠেলাগাড়ি লেবার বহুমুখী সমবায় সমিতিসহ বহু শ্রমিক-জনতা।

এর আগে ৮ এপ্রিল রাজধানীর হাজারীবাগের সব ট্যানারির বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ শেষ করে পরিবেশ অধিদপ্তর। তারা ২২৪টি বিদ্যুৎ-সংযোগ, ৫৪টি গ্যাসের সংযোগ ও ১৯৩টি পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।

গত ৬ মার্চ হাইকোর্ট হাজারীবাগ ছাড়তে ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন। পরে এ রায় সুপ্রিম কোর্টে বহাল থাকে। ট্যানারি মালিকেরা ঈদুল আজহা পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করলে তা হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায়। ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে ১০ এপ্রিলের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত। পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে ট্যানারি মালিকেরা আর কোনো আইনি লড়াইয়ে না যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ শুরু হয়।