রাজশাহীর আদালতে রাউধার সহপাঠীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

রাজশাহীতে মালদ্বীপের মডেল ও মেডিকেল শিক্ষার্থী রাউধা আথিফের মৃত্যুর ১২ দিন পর হত্যা মামলা করা হয়েছে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ আথিফ আজ সোমবার সকালে রাজশাহীর আদালতে হত্যা মামলাটি করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে নগরের শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

রাউধা আথিফ রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর সহপাঠী কাশ্মীরি শিক্ষার্থী সিরাত পারভীন মাহমুদকে সন্দেহভাজন আসামি করা হয়েছে আরজিতে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী কামরুল মনির বলেন, আজ সকাল ১০টায় আরজিটি রাজশাহী মহানগর হাকিম আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বিচারক সাইফুল ইসলাম বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এটিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য নগরের শাহমখদুম থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী রাউধার বাবা মোহাম্মদ আথিফ একজন চিকিৎসক। তিনি আরজিতে বলেছেন, রাউধার ঘাড়ে যে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে তা আত্মহত্যাজনিত হতে পারে না। কর্তৃপক্ষ বলেছিল যে তারা তাঁর মেয়ের কক্ষের দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেছিল; কিন্তু তিনি কক্ষের দরজা ভাঙার কোনো আলামত পাননি। ঘটনার আগে মধ্যরাত থেকে সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। সকাল থেকে আবার চলেছে। এ ছাড়া রাউধা তাঁর মাকে জানিয়েছিলেন যে সহপাঠী সিরাতের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য হয়েছে। রাউধা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে—সে খবরও সিরাতই অন্যদের জানিয়েছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী কামরুল মনির বলেন, এসব কারণে আদালত অভিযোগটিকে হত্যার মামলার এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

শাহমখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান দুপুর ১২টার দিকে বলেন, আদালতের কোনো আদেশ তাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। আদেশ পেলে সেই অনুযায়ী তাঁরা তদন্ত শুরু করবেন।

২৯ মার্চ রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরের দিন রাউধার লাশ দেখতে রাজশাহীতে আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়েশাথ শান শাকির এবং তাঁর মা-বাবাসহ পরিবারের ১২ সদস্য। ৩১ মার্চ মেডিকেল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। রাউধা আত্মহত্যা করেছে উল্লেখ করে বোর্ড ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। রাজশাহীর হেতেম খাঁ কবরস্থানে রাউধার দাফন করা হয়।