প্রচলিত আইনবহির্ভূত বয়ান নয় : হাইকোর্ট

ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত বলে উচ্চ আদালতের রায় এসেছে। আদালত বলেছেন, একজন মসজিদের ইমামের দায়িত্ব নামাজ পড়ানো ও ইসলামের আলোকে বয়ান দেওয়া। তিনি এমন কোনো বয়ান দেবেন না, যা দেশের প্রচলিত আইনবহির্ভূত।

আদালত আরও বলেন, কেউ ইসলাম বা হজরত মুহাম্মদ (সা.) অথবা কোনো ধর্ম সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করলে বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়। সে জন্য আইন নিজের হাতে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ব্লগার রাজীব হত্যার রায় পর্যবেক্ষণ করে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এসব কথা বলেন। রাজীব হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে পাওয়া দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডসহ আটজনের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সাক্ষ্যে শরিয়া আইনের বিষয়টি এসেছে। দেশে তা প্রযোজ্য কি না, এ বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। সাক্ষ্য, দলিলাদি ও আসামিপক্ষের যুক্তি থেকে দেখা যায়, মুফতি জসিমুদ্দিন রাহমানী ছাড়া বাকি সাতজন আসামি মেধাবী ছাত্র। কিন্তু কেন তাঁরা এই পথে গেলেন, এই মামলার মধ্যে আদালত তা খুঁজে পাননি।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এ ধরনের মেধাবী ছাত্র বিপথে যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পার। কেউ কেউ বলেন, অভিভাবকদের দায় বহন করতে হবে। অভিযুক্তদের অভিভাবকেরা শিক্ষিত ও উচ্চ অবস্থানে আছেন। আমরা সবাই নিজের লাইফস্টাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকি। সন্তানদের মানসিকতা ও তারা কোন দিকে যেতে চায়, তা বিবেচনায় আনা হয় না। আভিজাত্যের দিকে দৃষ্টি দিয়ে তাদের ওপর পড়াশোনাসহ অন্যান্য বিষয় চাপিয়ে দেওয়া হয়। এটি সঠিকভাবে তাদের বাড়তে দেয় না। তারা প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, অভিভাবকেরাই সন্তানের প্রাথমিক শিক্ষক। এ ক্ষেত্রে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্টদের বিলম্ব ছাড়াই বিষয়টি বিবেচনা করার সময় এসেছে বলেও আদালত জানান। শিক্ষা, রাজনীতি, স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস, ধর্মীয় সৌহার্দ্যপূর্ণ ঐতিহ্য—এসব বিষয়ে রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হতে হবে।

এই রায়ে এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে পুলিশপ্রধানকে আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান আদালত। সব ধরনের মামলায় এমন সব লোক নিয়োগ দিতে হবে (তদন্ত কর্মকর্তা), যাঁরা দেশের জন্য করতে চান।