শুক্রবার নারী জাগরণ সমাবেশ ও গণস্বাক্ষর » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

imranবার্তাবাংলা ডেস্ক :: যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে শুক্রবার বিকেল ৩টায় শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে নারী জাগরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এই সমাবেশে নারীদের যোগদান নিশ্চিত করতে পোশাক কারখানা এবং বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদের বিকেল তিনটার আগেই ছুটি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।

বৃহস্পতিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণজাগরণ মঞ্চের জাগরণ সমাবেশে এ আহ্বান জানান গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।

একই সঙ্গে গত ২২ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ৭ মার্চ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আগামী ২২ মার্চ পর্যন্ত চলবে বলেও জানান তিনি।

জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় হওয়ার পর দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ গণস্বাক্ষরে অংশ নিতে পারেননি বলে তা ২২ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।

শুক্রবারের নারী জাগরণ সমাবেশ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমাবেশের তারিখ ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

একাত্তরের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ রেখে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবং স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভের বেদিতে গণজাগরণ মঞ্চের এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার ছাড়াও বক্তব্য দেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

ইমরান বলেন, “আমাদের এই আন্দোলন অহিংস আন্দোলন।  কোনো ধরনের নৈরাজ্য যেন সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন। যে কোনো ধরনের অপপ্রচার, প্ররোচনা, উস্কানি বা মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত হবেন না।”

তিনি বলেন, “এমন কিছুই আমরা করবো না, যা রাষ্ট্র এবং জনগণের জানমালের ক্ষতি সাধন করে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হৃদয়ে লালন করে ৭ মার্চের অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে অহিংস আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে ঘরে ফিরতে চাই।”

গণজাগরণ মঞ্চের এই মুখপাত্র বলেন, “সারা বাংলায় যে মানুষেরা সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানাই সবাইকে। গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকেও আমরা তাদের পাশে দাঁড়াবো।”

দেশের সর্বত্র জামায়াত-শিবির প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে ইমরান বলেন, “প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এই অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। এই বাংলায় হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকলেরই এক পরিচয়। তারা এই দেশের নাগরিক।”

উল্লেখ্য, বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশের সর্বত্র সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের পর জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ জাগরণ সমাবেশ। সমাবেশের শুরুতেই রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র তাহসিনা তাওয়াজ অপূর্ব বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ হুবহু ও দৃপ্তকণ্ঠে দিয়ে উদ্দীপ্ত করে সমবেত হাজারো জনতাকে। আর দুপুর থেকেই প্রতিবাদী সঙ্গীত পরিবেশন করা হয় শিখা চিরন্তনীতে।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়ার পর রায় প্রত্যাখ্যান করে তারসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এ গণআন্দোলন শুরু হয় শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে।

২১ ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চ থেকে যে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে গণআন্দোলনের ৩১তম দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সমাবেশ। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বাইরে এটি ষষ্ঠ সমাবেশ। এর আগে মিরপুর, রায়েরবাজার বধ্যভূমি, মতিঝিল, বাহাদুর শাহ পার্ক ও যাত্রাবাড়ীতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »