বাংলাদেশ উন্নয়নের বিস্ময়কর মডেল : তোফায়েল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতায় পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থে হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের বিস্ময়কর মডেল। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। রোববার সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জ শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন সড়কে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে দেওয়া গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথির ভাষণে তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল ও মধ্যম আয়ের দেশ গড়া শেখ হাসিনার স্বপ্ন। ইতিমধ্যে দেশ ডিজিটালাইজড হয়েছে। গ্রাম শহরে পরিণত হয়েছে। ২০২০ সাল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সাল স্বাধীনতার ৫০ পূর্তিকে কেন্দ্র অগ্রযাত্রা ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আগামী জাতীয় সংসদে যাকেই নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়, তাকেই জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। তাঁর এই আহ্বানে উপস্থিত হাজারো মানুষ দুহাত তুলে সমর্থন জানায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন উন্নয়নের বিপ্লব। চারদিকেই উন্নয়ন আর উন্নয়ন। মুন্সিগঞ্জেও সমানে উন্নয়ন হচ্ছে। ঢাকা থেকে মাত্র এক ঘণ্টায় মুন্সিগঞ্জে আসা যায়। ড. ইউনূসসহ দেশদ্রোহী কিছু মানুষ পদ্মা সেতু নির্মাণের বিরোধিতা করে বিশ্বব্যাংককে বিভ্রান্ত করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতায় পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থে তৈরি হচ্ছে। আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে সেই পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আজ আমাদের দেশের রপ্তানি ৩৬ মিলিয়ন ডলার। আমাদের রিজার্ভ ৩২ মিলিয়ন ডলার, রেমিট্যান্স ১৫ মিলিয়ন ডলার, আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন সাড়ে ১৫ হাজার মেগোয়াট—যা কোনো সরকার করতে পারেনি। এটা বাংলাদেশে সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কারণে। বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষকে দিয়েছেন স্বাধীন দেশ। বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করা। মহান নেতাকে হত্যা করে বাংলাদেশকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ হাতে নিয়ে বাংলাদেশকে একটি সোনার বাংলায় রূপান্তর করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ২০১৮ সালের শেষে বা ২০১৯ সালের প্রথম দিকে নির্বাচনের তারিখ দেবেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আপনারা বিজয়ী করবেন। ২০২১ সালকে আপনাদের সামনে রাখতে হবে।

সাগুফতা ইয়াসমিন বলেন, জনগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ। তাই সবাই মিলে দেশ ও জাতির কল্যাণে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ ব্যাপক উপস্থিতিতেই তার প্রমাণ মিলে। তাই জাতির শত্রু বিএনপি-জামায়াত নিশ্চিহ্ন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সংবর্ধনায় মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘এটি আমার জীবনের স্মরণীয় ঘটনা। জাতীয় নেতাসহ সবাই একত্র হয়ে যেভাবে অংশ নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আমাকে সম্মান জানিয়েছে, তার মর্যাদা দেওয়ার চেষ্টা করব।’

জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন পরে একই মঞ্চে ছিলেন জেলার চার সাংসদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সাংসদ ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাংসদ মৃণাল কান্তি দাস, সাংসদ সাগুফতা ইয়াসমিন, সাংসদ সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনিস-উজ-জামান, পৌর মেয়র হাজি মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব, গোলাম সারোয়ার কবির প্রমুখ।

সংবর্ধনায় সভাপতিত্ব করেন মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গণসংবর্ধনা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক শেখ লুৎফর রহমান। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।