ইসরাত পুনম »

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট দিয়ে দিনে একাধিকবার দাঁত মেজেও মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে পারছেন না? সাবধান! আপনার মুখের দুর্গন্ধের পিছনে রয়েছে বিপদজনক সব রোগ। ক্যানসার, ডায়াবেটিস, কিডনি ফেলিওর, লিভারের সমস্যার জন্যই মুখে দুর্গন্ধ। মাড়ির রোগ, ক্যানসার, অ্যালার্জ, ডায়াবেটিস, লিভারের রোগ, কিডনি ফেলিওর, ক্যানডিডা আলবিকানস, ক্রনিক অম্বল, পাইলেরিয়া, জগরেনস সিনড্রোম রোগের সাইড এফেক্টে মুখে দুর্গন্ধ হয়।

১. মুখের দুর্গন্ধ অ্যামোনিয়া ধরনের হলে বুঝতে হবে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে। কারণ, দেহে ইনসুলিনের অভাব।

২. যদি নিঃশ্বাসে দিনের প্রত্যেক সময়ে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যেমন গন্ধ থাকে, তেমন গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে বুঝতে হবে মুখের ভেতর স্যালিভা শুকিয়ে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া উত্পন্ন হচ্ছে।

৩. সাইনাসের সমস্যা থাকলে নাকে ও গলায় মিউকাস জমে থাকে। তা থেকে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। অ্যালার্জির কারণেও মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয়।

৪. নিঃশ্বাসে যদি টক টক গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে বুঝতে হবে খাবারে প্রোটিনের মাত্রা অতিরিক্ত বেশি হয়েছে। কারণ, কিটোনের ভাঙন।

৫. যদি নিঃশ্বাসে আঁশটে গন্ধ হয়, তাহলে বুঝতে হবে কিডনির সমস্যা রয়েছে। কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে নাইট্রোজেন তৈরি হয়, যা দুর্গন্ধের জন্য দায়ী।

৬. নিঃশ্বাসে পচে যাওয়া মাংসের দুর্গন্ধ পেলে বুঝতে হবে, টনসিলের সমস্যা রয়েছে। টনসিলের কারণে সালফার উত্পন্নকারী ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়। যে কারণে দুর্গন্ধ তৈরি হয়।

৭. লিভারের সমস্যাতেও মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। নিয়মিত দাঁত মেজেও এই দুর্গন্ধ যায় না।

৮. ক্যানডিডা আলবিকানসের কারণেও মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। জিভে যারা কোনও অলঙ্কার পরেন, তাদের এই সমস্যা বেশি হয়।

৯. ক্রনিক অম্বলের কারণে মুখে দুর্গন্ধ তৈরি করে। আলসার এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে অনেক সময় পাইলেরিয়ার সংক্রমণ হয়। তা থেকে মুখে দুর্গন্ধ।

১০. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে অনেক সময়ই মুখ শুকিয়ে যায়। এই ধরনের মেডিক্যাল সমস্যার অন্যতম হল জগরেনস সিনড্রোম।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, দুর্গন্ধ মুক্ত থাকতে মৌসুমি তাজা ফল ও সবজি চিবিয়ে খেতে হবে। ক্যাফেইন প্রয়োজন হলে কফির বদলে চা খাওয়ার পরামর্শ। চিনিহীন চুইংগাম চিবানো যেতে পারে। দই যেমন হজমে সাহায্য করে, ঠিক তেমনই মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেও সক্ষম। ভিটামিন সি-র পর্যাপ্ত জোগান প্রয়োজন। তাই বিভিন্ন ধরনের লেবু খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকগণ। সিগারেট বা জর্দা দেওয়া পান খাওয়ার অভ্যাসও ছাড়তে হবে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »