ফারজানা তন্বী »

আপনি যদি ডায়াবেটিক রোগী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার পায়ের যত্নের বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন। পায়ে আরামদায়ক জুতো পরা প্রয়োজন যাতে পায়ে ব্যথা না লাগে। তবে আপনার ব্লাড সুগারের মাত্রা ঠিক রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে স্নায়ুর ক্ষতি হওয়া বা পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি হওয়া প্রতিরোধ করা যায়। স্নায়ুর ক্ষতি হওয়ার ফলে পায়ের অনুভূতি নষ্ট হয়ে যায় বলে ব্যথা পেলে বা আঘাত পেলে টের পাওয়া যায়না।

যদি ইতিমধ্যেই আপনার পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে তাহলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সঠিক যত্ন নেয়ার মাধ্যমে পরবর্তী ক্ষতি প্রতিরোধ করা যায়। এছাড়াও প্রতিদিন পায়ের ইনফেকশনের যেমন- লাল হয়ে যাওয়া, ফোস্কা পড়া বা পুঁজ পড়ার লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করাও জরুরী। জুতো-মোজা পরা ও খোলার সময় পা ভালো করে লক্ষ করতে পারেন। ঠিকভাবে সম্পূর্ণ পা পর্যবেক্ষণের জন্য আয়না ব্যবহার করতে পারেন অথবা আপনার পরিবারের সদস্যদের কাউকে আপনার পায়ের পাতা পর্যবেক্ষণ করার কথা বলতে পারেন। ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের যত্নে যা করা উচিৎ ও যা করা উচিৎ নয় সেই বিষয়েই জানবো আজ এই ফিচারে।

১. যা করবেন – প্রতিদিন আপনার পা হালকা সাবান ও উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। থার্মোমিটার দিয়ে পানির তাপমাত্রা মেপে নিতে পারেন যাতে তা ৯০ ডিগ্রী ফারেনহাইটের বেশি না হয়। ধোয়ার পর পায়ের পাতা ও আঙ্গুলের ফাঁকগুলো ভালো করে মুছে শুকিয়ে নিন।

যা করবেন না – গরম পানি দিয়ে পা ধোবেন না। এতে পা পুড়ে যেতে পারে।

২. যা করবেন – লোশন বা পেট্রোলিয়াম জেলি পায়ে লাগান যাতে পায়ের ত্বক মসৃণ থাকে। জুতো- মোজা পরার আগে পায়ে সাধারণ পাউডার ছিটিয়ে নিন যাতে পা ঘেমে না যায়।

যা করবেন না – আঙ্গুলের ফাঁকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন না।

৩. যা করবেন – যাতে নখকুণি হতে না পারে এজন্য পায়ের নখ কাটার সময় সোজা করে কাটুন এবং নেইল ফাইলার দিয়ে ঘষে নিন যাতে নখের প্রান্ত ধারালো না থাকে।

যা করবেন না – নখ যেন বেশি বড় হয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন এবং পায়ের নখ কাটার সময় ছুরি বা ব্লেড ব্যবহার করবেন না।

৪. যা করবেন – ঘরে অথবা ঘাসের মধ্যে খালি পায়ে হাঁটাই পছন্দ করেন বেশীর ভাগ মানুষ। কারণ এর ফলে পায়ের রক্ত প্রবাহের উন্নতি ঘটে। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি ঠিক নয়। খালি পায়ে হাঁটলে পায়ে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তাই সব সময় স্লিপার পরে হাঁটা উচিৎ। নরম ও আরামদায়ক জুতা পরা উচিৎ।

যা করবেন না – কখনোই খালি পায়ে হাঁটবেন না।

৫. যা করবেন – সারাদিনে বেশ কয়েকবার পায়ের পাতা ও আঙ্গুলগুলো নড়াচড়া করুন যাতে রক্ত প্রবাহ ঠিক মত হয়।

যা করবেন না – একই অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না বা পায়ের উপর পা তুলে বসবেন না। এতে পায়ের পাতায় রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়।

৬. যা করবেন – পা ফুলে গেলে বা জয়েন্টে ব্যথা হলে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে ঠান্ডা বা গরম সেঁক দেয়া। কিন্তু ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে এ ধরণের কিছু করা ঠিক নয়। পায়ে কোন ধরণের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

যা করবেন না – ঠান্ডা বা গরম সেঁক বা কোন শক্তিশালী অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। না হলে পায়ের ত্বকে ইনফেকশন হতে পারে বা আঘাত লাগতে পারে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »