ভারতে প্রথম আইএসের হানা!

লক্ষ্য ছিল জঙ্গিকে ধরা হবে জীবিত। তবে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার অভিযান শেষে এক জঙ্গির মরদেহ মিলল। জঙ্গি নিহত হলেও ভারতের কপালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গভীর চিন্তার ছাপ ফেলে গেল। কারণ, আইএসের জাল যে ভারতে ভালোভাবে বিছানো হয়েছে, মঙ্গলবারের ঘটনার পর তা নিয়ে গোয়েন্দাদের মনে আর কোনো সংশয় রইল না।

ভারতের মধ্যপ্রদেশে ভোপাল-উজ্জয়িনী প্যাসেঞ্জার ট্রেনের শেষ কামরায় গতকাল মঙ্গলবার এক বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে পাঁচ নারীসহ মোট নয়জন আহত হন। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের তথ্যসূত্র ধরে মধ্যপ্রদেশের পাশাপাশি উত্তর প্রদেশেও তল্লাশি শুরু হয়। মধ্যপ্রদেশের পিপারিয়া থেকে গ্রেপ্তার হয় তিন যুবক—দানিশ আখতার, আতিফ মুজফফর ও সৈয়দ হুসেন। ওই যুবকেরা সবাই উত্তর প্রদেশের কানপুর ও আলিগড়ের বাসিন্দা। তাদের জেরা করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কানপুর থেকে আরও দুই যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং শুরু হয় লক্ষ্ণৌ অভিযান।
যুবকেরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায় সাইফুল্লাহ নামের এক যুবকের সন্ধান। লক্ষ্ণৌয়ের ঠাকুরগঞ্জের হাজি কলোনিতে তার ডেরায় আজ বুধবার দুপুরেই হানা দেয় সন্ত্রাস দমন শাখার কমান্ডোরা। একতলা ওই বাড়িটি জঙ্গিরা ভাড়া নিয়েছিল যাঁর কাছ থেকে, তিনি পশ্চিম এশিয়ায় কর্মরত। কমান্ডোদের ধারণা ছিল, বাড়িতে দুজন জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে। তাদের জীবিত অবস্থায় ধরাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু ১২ ঘণ্টার অভিযান শেষে একজনকেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাড়ি থেকে পাওয়া যায় আটটি পিস্তল, প্রচুর গুলি, ট্রেনের টাইম টেবল, সোনা, পাসপোর্ট, সিমকার্ড এবং আইএসের পতাকা। গোয়েন্দা ও কমান্ডোদের দাবি, ট্রেনে যে ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছে, তা ওই বাড়িতে মজুত ছিল। সাইফুল্লাহর বাবা সারতাজ ছেলের মরদেহ নিতে অস্বীকার করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, একজন দেশদ্রোহী ও সন্ত্রাসী তাঁদের সন্তান হতে পারে না।
গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, যুবকেরা সবাই আইএসের সক্রিয় সদস্য এবং দলে রয়েছে মোট নয়জন। বাকিদের ধরতে তল্লাশি চলছে। পুরো ঘটনার তদন্ত করছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। এই সংস্থা সূত্রে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের ট্রেন বিস্ফোরণটা তাদের কাছে ছিল এক বড় ধরনের নাশকতার মহড়া। তারা উত্তর প্রদেশের বরাবাঁকির এক প্রসিদ্ধ সুফি দরগায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের ছক কষেছিল।